বাজার থেকে কেনা নয়, এবার রান্নাঘরের বীজেই ছাদবাগানে ফলান টাটকা ক্যাপসিকাম! রইল সহজ উপায়

বাজার থেকে বহুবার ক্যাপসিকাম বা বেল পেপার কিনে হয়তো খেয়েছে সবাই। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, রান্নার কাজে ব্যবহার করা সেই ক্যাপসিকাম থেকেই বাড়ির বারান্দা বা ছাদে খুব সহজে নতুন গাছ ফলানো সম্ভব? বিশেষ করে এই বর্ষার মরসুমে ছাদবাগান বা ব্যালকনি গার্ডেনিং শুরু করার জন্য ক্যাপসিকাম চাষ করা একদম সেরা সিদ্ধান্ত হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য বাইরে থেকে কোনো দামি বীজ কেনার প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা পাকা ক্যাপসিকামের ভিতর থেকেই বীজ সংগ্রহ করে অনায়াসে গাছ লাগিয়ে নিতে পারেন।

বীজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে টব প্রস্তুত করার সঠিক নিয়ম
বাড়িতে ক্যাপসিকাম গাছ লাগানো খুবই সহজ এবং এর জন্য খুব বেশি পরিশ্রমেরও প্রয়োজন হয় না। কেবল কয়েকটি ছোটখাটো নিয়ম মাথায় রাখলেই সারা বছর ঘরে বসে টাটকা ক্যাপসিকাম পেতে পারেন।

বীজ সংগ্রহ: প্রথমে বাজার থেকে একটি ভালো, বড় ও সুস্থ ক্যাপসিকাম বেছে নিন। সেটি কেটে ভেতরের বীজগুলো সাবধানে আলাদা করে নিন। খেয়াল রাখবেন বীজগুলো যেন পরিষ্কার থাকে। এরপর বীজগুলোর অতিরিক্ত আর্দ্রতা দূর করতে সেগুলোকে কিছুক্ষণ ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হবে।

টব ও মাটি তৈরি: ক্যাপসিকাম চাষের জন্য ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি গভীর ও চওড়া টব বা পাত্র নির্বাচন করা দরকার। বর্ষার দিনে টবের নিচে জল বের হওয়ার ছিদ্র থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে অতিরিক্ত জল জমে শিকড় পচে না যায়। মাটির ক্ষেত্রে সাধারণ বাগানের মাটির সাথে পরিমিত পরিমাণে পচা গোবর সার বা ভার্মিকম্পোস্ট এবং সামান্য বালি মিশিয়ে ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করে নিতে হবে।

বীজ বপন ও জল দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো এড়াবেন
টব মাটি দিয়ে পূর্ণ করে ক্যাপসিকামের বীজগুলো খুব বেশি গভীরে না পুঁতে ওপরের দিকে হালকাভাবে বসিয়ে দিন। এরপর স্প্রে বোতলের সাহায্যে আলতো করে জল ছিটিয়ে দিন যাতে বীজগুলো সরে না যায়। টবটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পাওয়া যায়, তবে সরাসরি ভারী বৃষ্টির জলের হাত থেকে গাছকে রক্ষা করতে হবে।

বর্ষার মরসুমে অনেকেই প্রতিদিন গাছে জল দেওয়ার ভুলটি করে থাকেন। অথচ এই সময়ে গাছের জলের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হয়। তাই টবে জল দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে মাটির ওপরের স্তর পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। মাটি ভেজা থাকলে জল দেওয়ার দরকার নেই। টবে জল জমলে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।

গাছ বড় করা এবং ফলন পাওয়ার সময়
বীজ থেকে ছোট চারা গজানোর পর টবটিকে পর্যাপ্ত রোদ আসে এমন স্থানে সরিয়ে নিন। ক্যাপসিকাম গাছ ভালো সূর্যালোক পেলে খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে গাছের মাটি হালকা করে আলগা করে দিন এবং কোনো শুকনো বা পচা পাতা থাকলে তা কেটে ফেলে দিন। প্রয়োজনে জৈব সার ব্যবহার করলে গাছের গ্রোথ আরও ভালো হয়।

বীজ বপনের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই গাছে ছোট ছোট ক্যাপসিকাম ধরতে শুরু করে। শুরুতে এগুলোর রঙ সবুজ থাকে এবং সবুজ অবস্থাতেই তুলে ব্যবহার করা যায়। তবে গাছে আরও কিছুদিন রেখে দিলে এগুলো ধীরে ধীরে হলুদ বা লাল রঙের হয়ে ওঠে। সঠিক পরিচর্যা করলে একটি মাত্র গাছ থেকেই আপনি নানা রঙের আকর্ষণীয় ক্যাপসিকাম পেতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *