বিধানসভার বই ফেরত না দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ! সরাসরি হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

বিধানসভার লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে তা ফেরত না দিলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সাধারণ পাঠকের মতো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিউড়ির একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঠিক এই ভাষাতেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ।
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার লাইব্রেরি থেকে রবীন্দ্র রচনাবলী তোলার পর তা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইন সকলের জন্যই সমান। একজন সাধারণ পাঠক বই ফেরত না দিলে যে নিয়ম প্রযোজ্য হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হবে না। একইসঙ্গে আগের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, অতীতে জোর করে লাইব্রেরিগুলিতে নির্দিষ্ট কিছু নেতার বই কিনতে বাধ্য করা হতো।
এদিকে এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়ে মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ ঘোষণা করেছেন যে, প্রাক্তন গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর আমলে লাইব্রেরিতে রাখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সমস্ত ‘অপ্রয়োজনীয়’ বই অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হবে। তাঁর বক্তব্য, ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ জাতীয় সাহিত্য আর লাইব্রেরিতে ঠাঁই পাবে না। পরিবর্তে সেই জায়গাগুলিতে রাষ্ট্রবাদী ভাবনা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়ে লেখা মানসম্মত বই রাখা হবে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রশাসনিক হুঁশিয়ারি এবং লাইব্রেরির বই বিতর্কে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। বই ফেরানো সংক্রান্ত এই কড়া পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।