“মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মস্তিষ্কে নয়!” আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের তীব্র প্রতিবাদে সরব আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার আর্জি খারিজ করে আদালত যে রায় দিয়েছে, তাকে সরাসরি ‘ইসলামের উপর আক্রমণ’ বলে তোপ দেগেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

আদালত কী জানিয়েছে?
প্রয়াগরাজের একটি স্কুলের এক নাবালিকা ছাত্রী স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল। গত মঙ্গলবার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি জেজে মুনির এবং বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, আবেদনকারী এমন কোনো ধর্মীয় নথি বা প্রমাণ পেশ করতে পারেননি যা থেকে প্রমাণিত হয় যে স্কার্ফ পরা তার ধর্মের একটি অপরিহার্য অঙ্গ।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, স্কুলের পোশাকবিধি যদি সবার জন্য এক, বৈষম্যহীন এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়, তবে তা নির্ধারণ করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষেরই রয়েছে। ওই ছাত্রী নিচু ক্লাসে স্কার্ফ পরে থাকলেও তা উচ্চ শ্রেণিতে বা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় নিয়ম ভাঙার কোনো স্থায়ী অধিকার দেয় না। উল্লেখ্য, ওই স্কুল থেকেই দশম শ্রেণি পাশ করার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ পোশাকবিধি মনে করিয়ে দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়।

ওওয়াইসির তীব্র আক্রমণ
আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। হায়দরাবাদের দারুসসালামে দলের সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি এই রায়কে মানেন না। তাঁর যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টে যখন শবরীমালা মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ধর্মের কোনটা অপরিহার্য অঙ্গ তা নিয়ে বিচার চলছে, তখন হাইকোর্টের এমন রায় দেওয়া উচিত হয়নি।

ওয়াইসির দাবি, এই রায় ভারতীয় সংবিধানের ২৫ এবং ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মস্তিষ্কে নয়। ইসলামের জন্য কোনটা অপরিহার্য, সেটা ঠিক করার আপনারা কে? এটা সরাসরি ইসলামের উপর আক্রমণ।”

এর আগে কর্ণাটক সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিজাব বিতর্ক নানা আইনি মোড় নিয়েছিল। প্রয়াগরাজের এই নতুন রায় এবং মিম প্রধানের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *