শ্রীলঙ্কার মাটির নিচ থেকে উদ্ধার একসঙ্গে ১৭টি সোনালি বুদ্ধমূর্তি! শতাব্দী প্রাচীন কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এর পেছনে?

দেশের প্রাচীন রাজধানী। বহু শতাব্দী ধরে যে শহর ছিল বৌদ্ধ শিক্ষা, ধর্মচর্চা এবং বিশাল মঠ সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আর সেই সমৃদ্ধ ইতিহাসের মাটির নিচ থেকেই এবার উদ্ধার হলো একসঙ্গে ১৭টি সোনালি বুদ্ধমূর্তি।
শ্রীলঙ্কার প্রাচীন রাজধানী অনুরাধাপুরার বিখ্যাত অভয়গিরি মঠ চত্বরে নিয়মিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চলাকালীন এই মূর্তিগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে। ব্রোঞ্জের তৈরি এই মূর্তিগুলির গায়ে রয়েছে নিখুঁত সোনার প্রলেপ। একই জায়গা থেকে এতগুলি সোনালি মূর্তি একসঙ্গে পাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কী কারণে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল মূর্তিগুলি?
ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। মূর্তিগুলি কি কোনো বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য একসঙ্গে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল? নাকি কোনো যুদ্ধ, বিদেশি আক্রমণ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে মূল্যবান এই ধর্মীয় সামগ্রীগুলি রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই সেগুলিকে সুকৌশলে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল?
তবে এই সমস্ত প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনও মেলেনি। মূর্তিগুলির সঠিক বয়স, নির্মাণশৈলী এবং ঠিক কোন সময়ে সেগুলি সেখানে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে বর্তমানে বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব কতটা?
অভয়গিরি কেবল একটি সাধারণ মঠ ছিল না। প্রাচীন যুগে এটি ছিল বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চার একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই কেন্দ্রের গভীর যোগাযোগ ছিল। বিশ্বের দূর-দূরান্ত থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষু, পন্ডিত এবং তীর্থযাত্রীরা জ্ঞানার্জনের জন্য এই অনুরাধাপুরায় আসতেন।
ফলে, ১৭টি সোনালি বুদ্ধমূর্তির এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার কেবল শিল্পের কোনো সাধারণ নিদর্শন নয়, বরং প্রাচীন শ্রীলঙ্কার ধর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইতিহাস উন্মোচনের ক্ষেত্রে এক নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।