“স্কুলে কি তবে পঠনপাঠন বন্ধ হবে?” হাজারো যোগ্য শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে চরম অনিশ্চয়তার মেঘ!

২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলকাণ্ডের জট কিছুতেই কাটছে না। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন রাজ্যের যোগ্য শিক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বাড়াতে এবং অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। মঙ্গলবার এই বিশেষ আর্জি শুনতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকরা সবেতন চাকরি করার এবং স্কুলে গিয়ে দায়িত্ব পালনের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে আদালতের বেঁধে দেওয়া সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ৩১ অগাস্টের পরেও শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। রাজ্য সরকার ও কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন। আদালতের নির্দেশ মতো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে কর্মরত শিক্ষকরা স্কুলে যেতে না পারলে পঠনপাঠনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, এই আশঙ্কা প্রকাশ করেই আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অতীতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্যানেল বাতিল হলেও, পরবর্তীতে যোগ্য শিক্ষকদের একাংশকে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এর মাঝেই ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ নীতি সংক্রান্ত সংশোধনের ফলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার পর, সংশোধিত নিয়ম মেনে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে কিছুটা সময় লেগেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট ৩১ অগাস্টের আগেই এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে। এখন শীর্ষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশেই ঠিক হবে হাজার হাজার যোগ্য শিক্ষকের ভবিষ্যৎ।

প্রধান হাইলাইটস:

  • মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে রাজ্য ও এসএসসি।

  • শুনানিতে সায়: যোগ্য শিক্ষকদের আইনজীবী ও রাজ্যের আর্জির প্রেক্ষিতে ৩১ অগাস্টের আগেই শুনানি করতে রাজি হয়েছে শীর্ষ আদালত।

  • সংরক্ষণ সংক্রান্ত জট: ওবিসি সংরক্ষণ নীতি ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করায় নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে।

  • পঠনপাঠন বাঁচানোর তাগিদ: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে স্কুলগুলির শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *