চিনির দামে হঠাৎ আগুন! উত্তরপ্রদেশে ২৮ লক্ষ টন মজুত দেখে কী বললেন যোগী?

চিনির দামে আকস্মিক উল্লম্ফনে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাজারে যখন মূল্যবৃদ্ধির জল্পনা তুঙ্গে, তখন দেশের এই পরিস্থিতিতে কড়া বার্তা দিল প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর রাজ্যে চিনির কোনো ঘাটতি নেই। তাঁর দাবি, রাজ্যের গুদামগুলিতে এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থাৎ প্রায় ২৮ লক্ষ টন চিনি মজুত রয়েছে যা পরিস্থিতি সামলাতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।
রাজধানী লখনউতে ৩,৪৪৬ জন টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ১২৬ জন মান্ডি সচিবের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশজুড়ে যখন চিনির সংকট নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তখন উত্তরপ্রদেশের ভাঁড়ার যে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, তা পরিসংখ্যান দিয়েই প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তথ্য তুলে ধরে জানান, উত্তরপ্রদেশের মোট মাসিক চিনির ব্যবহার চার লক্ষ টন। সেই হিসাব কষেই তিনি বলেন যে তাদের হাতে এই মুহূর্তে প্রায় সাত মাসের সমান অর্থাৎ মোট ২৮ লক্ষ টন চিনি মজুত অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকেই রাজ্যের সমস্ত চিনিকলগুলি পুনরায় চালু করা হবে। এই মিলগুলির মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রায় ৯০ লক্ষ টন বা ৯০০ লক্ষ কুইন্টাল চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, যা রাজ্যের বিশাল উৎপাদন ক্ষমতারই পরিচায়ক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা কেবল নিজেদের ২৫ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র দেশের ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষাতেও এই রাজ্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও উন্নয়নে তরুণ প্রজন্মের কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, বর্তমান দিনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না রেখে এবং সংরক্ষণের সমস্ত নিয়ম মেনে সঠিক প্রার্থী বেছে নেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকারের গঠিত কমিশন ও বোর্ডগুলি অত্যন্ত সফলভাবে এই গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছে। কোনো রকম স্বজনপোষণ বা বৈষম্য ছাড়াই যখন যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পান, তখন পুরো রাজ্য তার সুফল পায় এবং যুবসমাজ তাদের মেধা ও কর্মশক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার সুযোগ লাভ করে। বিগত কয়েক বছরে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের এটি অন্যতম প্রধান সাফল্য বলেও তিনি দাবি করেন।
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন যে ২০১৭ সালের আগের পরিস্থিতি আর বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি বড় ঘোষণা করে জানান যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে প্রতি সপ্তাহে এক লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে। তাঁর সরকারের আমলে ইতিমধ্যে সাড়ে নয় লক্ষেরও বেশি তরুণকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগের প্রশাসনের জমানায় যুবকদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হতো বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন যে বর্তমান সরকার তরুণদের মেধা ও দক্ষতাকে সঠিক দিশা দেখাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।