“২ মাসের মধ্যেই বিক্রি করতে হবে”-বাজারে চিনির দাম কমাতে অ্যাকশন মোডে কেন্দ্র

দেশের বাজারে চিনির লাগামছাড়া দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক যুগান্তকারী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র। খুচরো বাজারে চিনির দাম আমজনতার নাগালের মধ্যে রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রুখতে চিনি আমদানির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে খুব শীঘ্রই বাজারে চিনির জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে কাঁচা বা অপরিশোধিত চিনি আমদানি করার পর তা আগামী মাত্র দুই মাসের মধ্যে পরিশোধন করে বাধ্যতামূলকভাবে খুচরো বাজারে বিক্রি করতে হবে। সরকারের তরফ থেকে মনে করা হচ্ছে, এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ফলে দেশের বাজারে চিনির পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা সব সময় বজায় থাকবে। এর পাশাপাশি, অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে চিনি মজুত বা কালোবাজারি করার সুযোগ পাবে না।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি প্রদান করেছে। এর ফলে খুচরো বাজারে কেজিতে ৮০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া চিনির দাম অনেকটাই কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বস্তি সাময়িকও হতে পারে, কারণ আসন্ন উৎসবের মরশুমে বাজারে চিনির চাহিদা থাকে আকাশছোঁয়া। এমন পরিস্থিতিতে বিশাল পরিমাণ এই চিনিও দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে ভারতে চিনি আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস দেশ হলো ব্রাজিল। তবে সুদূর ব্রাজিল থেকে জাহাজযোগে ভারতে চিনি পৌঁছাতে প্রায় এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়। এরপর বন্দর থেকে রিফাইনারি মিলগুলিতে পৌঁছাতে আরও কিছুটা অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। তা সত্ত্বেও সরকার যদি জরুরি ভিত্তিতে প্রক্রিয়াগুলি ত্বরান্বিত করে, তবে বাজারে দ্রুত চিনি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, কলকাতার বিভিন্ন বাজারে চিনির দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক খুচরো বিক্রেতা অতিরিক্ত মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে শহরতলির কিছু সচেতন ব্যবসায়ীর মতে, বর্তমান বাজারে চিনির দাম ৬৫ থেকে ৬৬ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। এর চেয়ে বেশি দাম নিলে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং অতিরিক্ত মুনাফার ফলেই সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *