“মাকে খুন করে রান্নাঘরে কবর দিল ছেলে”-পুরীতে নৃশংস ঘটনা, তারপর…যা ঘটলো?

ওড়িশার পবিত্র তীর্থক্ষেত্র পুরীতে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ ভগবানের ধামে নিজের মাকে নৃশংসভাবে খুন করে রান্নাঘরের মেঝের নীচে দেহ কবর দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরী শহরের কুম্ভরপাড়া এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে এবং পুলিশ তার সন্ধানে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক ও তার মা প্রায় দু’মাস আগে ওই এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেছিলেন। প্রতিবেশীদের দাবি, মা ও ছেলের মধ্যে কখনোই কোনো বড় ধরনের বিবাদ বা অশান্তি হতে দেখা যায়নি। ফলে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। জানা গেছে, ছেলেটি পুরীর একটি স্থানীয় স্টুডিওতে কাজ করত এবং মা ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে ওই মহিলাকে পাড়ায় আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। পাশাপাশি, ছেলেটিও হঠাৎ করে বাড়ি ছেড়ে কোথাও চলে যায়।
সোমবার বাড়ির মালিক মনোরমা সাহু ভাড়াবাড়িটির রান্নাঘর থেকে একটি তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধ পান। এর পরেই তাঁর মনে প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তিনি স্থানীয় থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে কুম্ভরপাড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ অফিসাররা রান্নাঘরটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখেন যে মেঝের একটি নির্দিষ্ট অংশ সদ্য সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার বা বাঁধানো হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। এরপর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে পাঠানো হয় এবং তাঁদের উপস্থিতিতে সিমেন্টের ওই অংশটি ভাঙা হয়।
সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সিমেন্টের নিচ থেকে ওই মহিলার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও প্রাথমিক অনুমান ওই দেহটি নিখোঁজ মায়েরই। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, অপরাধের সমস্ত প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্যেই ছেলেই মাকে খুন করে রান্নাঘরের মেঝের নিচে পুঁতে দিয়েছিল এবং গন্ধ ছড়ানোর আগেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকে কুম্ভরপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এখন পলাতক অভিযুক্তের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও অন্যান্য সূত্র ধরে তাকে পাকড়াও করার চেষ্টা চালাচ্ছে।