চড়া দামে অ্যাভোকাডো অয়েলের খাবার কিনছেন? বিরাট জালিয়াতির পর্দাফাঁস, জানলে চমকে যাবেন!

সুপারমার্কেটের তাকে এখন প্রিমিয়াম বা অভিজাত পণ্যের তালিকায় ওপরের দিকেই থাকে অ্যাভোকাডো অয়েল। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ থেকে শুরু করে ভোজনরসিকরা— চিপস, মায়োনেজ বা স্যালাড ড্রেসিংয়ে এই বিশেষ তেল ব্যবহার করা খাবারগুলির জন্য দেদার বাড়তি দামও খরচ করেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা ক্রেতাদের মাথায় হাত ফেলে দিয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ট্রেন্ডি তেলের নামে বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে, তার বড় একটা অংশই আসলে খাঁটি নয়!

‘অ্যাপ্লায়েড ফুড রিসার্চ’ (Applied Food Research)-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বাজার থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা গিয়েছে, অ্যাভোকাডো অয়েল রয়েছে বলে দাবি করা ৫৪টি পণ্যের মধ্যে প্রায় ৮৯ শতাংশ বা ৪৮টি পণ্যেরই তেলের উপাদানের সঙ্গে আসল অ্যাভোকাডো অয়েলের কোনো মিল নেই। গবেষকরা পণ্যের মোড়কের লেবেল বা দাবির ওপর নির্ভর না করে ল্যাবরেটরিতে তেল নিষ্কাশন করে তার রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং ফ্যাট-অ্যাসিড প্রোফাইল পরীক্ষা করেছিলেন।

পণ্যের ধরণ অনুযায়ী এই ভেজালের চিত্রটি আরও ভয়ংকর:

১. অ্যাভোকাডো অয়েলের তৈরি দাবি করা চিপসের প্রায় ৯৩ শতাংশই খাঁটি নয়।
২. মায়োনেজ জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশের মতো এবং স্যালাড ড্রেসিংয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ (১০০%) পণ্যেই জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই খাবারগুলিতে আসল অ্যাভোকাডো অয়েলের অন্যতম প্রধান উপাদানগুলি অত্যন্ত কম পরিমাণে রয়েছে এবং তার পরিবর্তে সস্তা সবজি তেল বা ভেজিটেবল অয়েলের উপস্থিতি স্পষ্ট। গবেষকদের মতে, সাধারণ খাবার তৈরির প্রক্রিয়ায় তেলের এই পরিবর্তন ঘটা সম্ভব নয়। এটি স্পষ্টতই অর্থনৈতিক জালিয়াতি বা ইনগ্রেডিয়েন্ট-লেভেল অ্যাডাল্ট্রেশন।

অ্যাভোকাডো অয়েলের চড়া দামের কারণে মুনাফা লোটার লোভেই এই কারচুপি করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এই ভেজাল খাবারগুলি খাওয়ার কারণে সরাসরি কোনো বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি বা বিষক্রিয়ার প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে খাঁটি জিনিস কেনার আশা করলেও আদতে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রস্তুতকারক সংস্থাই নয়, অনেক সময় কাঁচামাল সরবরাহকারীদের কারচুপির কারণেও এই ধরনের ভেজাল উপাদান অজান্তেই সাপ্লাই চেনে ঢুকে পড়ে। তাই দাম বেশি মানেই যে পণ্যটি শতভাগ খাঁটি, এমন ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। এখন থেকে প্রিমিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রে কেবল বিজ্ঞাপনের ওপর ভরসা না রেখে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীন ভেরিফিকেশনের ওপর জোর দেওয়ার কথাই বলছেন গবেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *