আইফোনের কিস্তি মেটানোর টানাপোড়েন! মানসিক অবসাদে যমুনায় ঝাঁপ নৃত্য শিক্ষকের

শৌখিনতা যখন গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার ফের এক প্রমাণ মিলল রাজধানীতে। সাধের আইফোন কেনার পর তার কিস্তি বা ইএমআই শোধ করতে না পেরে চরম মানসিক অবসাদে ভুগেছিলেন এক যুবক। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত যমুনা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। তবে পুলিশের তৎপরতায় এ যাত্রায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ওই যুবক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপদে পড়া ওই যুবকের নাম দীপক কুমার। বয়স ৩০ বছর এবং তিনি পেশায় একজন নৃত্য শিক্ষক। দিল্লির ওখলা ফেজ টু এলাকার সঞ্জয় কলোনিতে তাঁর বসবাস। গত শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ এলাকার ভোলা ঘাটের কাছে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিজের আর্থিক অবস্থার কথা না ভেবেই শখ করে একটি আইফোন কিনেছিলেন দীপক। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিয়মিত তার কিস্তি বা ইএমআই দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে ঋণের বোঝাও বাড়তে থাকে দিনকে দিন। আর্থিক অনটনের সেই তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চরম পথ বেছে নেন তিনি।

ঘটনার দিন ভোলা ঘাটের কাছে যমুনা নদীর চরে টহল দিচ্ছিলেন দিল্লি পুলিশের হেড কনস্টেবল শিবম এবং কনস্টেবল আনন্দ গৌতম। ঠিক তখনই তাঁরা নদীর জলে কারও ঝাঁপ দেওয়ার শব্দ ও আর্তনাদ শুনতে পান। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন দুই পুলিশকর্মী। খবর দেওয়া হয় ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি তথা ডিডিএমএ-র উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিদের।

তৎক্ষণাৎ বোট নিয়ে যমুনার বুকে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। পুলিশের যৌথ ও দ্রুত পদক্ষেপে ডুবুরিরা দ্রুত জল থেকে ওই যুবককে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আনতে সক্ষম হন। নদী থেকে তোলার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া দীপক কুমারকে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করা হয়। এরপর তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদে আত্মীয়ের জিম্মায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইফোন সংক্রান্ত বিপদের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে মহারাষ্ট্রেও একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে আইফোন কেনার বায়না এবং তা কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পারিবারিক অশান্তির জেরে প্রাণ হারাতে হয়েছিল একই পরিবারের তিন সদস্যকে। শৌখিনতার মোহ কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এই ঘটনা যেন তারই এক কঠিন সতর্কবার্তা। সময়মতো পুলিশের হস্তক্ষেপে দীপক কুমার বেঁচে ফিরলেও, এই ঘটনা আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তরুণ প্রজন্মের অতিরিক্ত শৌখিনতা ও আর্থিক সক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *