রেশন দুর্নীতি নিয়ে ক্যাগের রিপোর্টে তোলপাড়! অ্যাম্বুলেন্সে ধান পাচার থেকে ভুয়ো এন্ট্রি—বিস্ফোরক তথ্যে শোরগোল

রেশন দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে, ঠিক তখনই সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও পরিবহণ ব্যবস্থায় একের পর এক নজিরবিহীন অসঙ্গতির ছবি তুলে ধরে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগের (CAG) রিপোর্ট। এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।

ক্যাগের অডিট রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ এবং ২০২১ অর্থবর্ষে বেনফেডের মাধ্যমে ধান পরিবহণের ক্ষেত্রে যে সমস্ত গাড়ির নম্বর নথিভুক্ত করা হয়েছিল, তা নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই দুই অর্থবর্ষে এমন কিছু গাড়ির সন্ধান মিলেছে, যেগুলির মাধ্যমে আস্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে ধান পরিবহণ করা হয়েছে বলে সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে। শুধু অ্যাম্বুল্যান্সই নয়, ধান বহনের এই কাজে বিলাসবহুল ক্যাব এমনকি বাস ব্যবহারের মতো অবিশ্বাস্য তথ্যও নথিবদ্ধ রয়েছে।

ক্যাগের হিসাব বলছে, ৪ হাজার ২১১ কুইন্টালেরও বেশি ধানের কোনো যথাযথ হিসাবই মেলেনি। একাধিক ক্ষেত্রে ভুয়ো তথ্য কিংবা একই গাড়ির নম্বরের পুনর্ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য ঠিক কার ইশারায় এবং কোন গন্তব্যে পাচার হয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, ধান পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত অন্তত ১৯টি গাড়ির কোনো বৈধ আইনি নথি বা রেজিস্ট্রেশনের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এমনকি, ছ’টি তিন চাকার ছোট গাড়িতে ১ হাজার ১৫৯ কুইন্টাল এবং দুটি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে ১ হাজার ৭৬৪ কুইন্টাল ধান পরিবহণ করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। পরিবহণের পাশাপাশি ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় চরম দুর্নীতি ও অনিয়মের ছবিও স্পষ্ট হয়েছে ক্যাগের অডিতে। মাত্র ১০ জনের নামে ৫৯টি এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের ধান সংগ্রহের হিসাব দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে খোদ দুই রাইস মিল মালিক ও তাঁদের পরিবারের ২১ জন সদস্যের নামে হাজার হাজার কুইন্টাল ধানের হিসাব মিলেছে।

প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার পরেও এই ধরনের ভুয়ো এন্ট্রি বা কারচুপি যে থামেনি, ক্যাগের রিপোর্টে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে গোটা খাদ্যবণ্টন ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *