৭ বছর পর কি ভারতে আসছেন শি জিনপিং? বড় আলোচনার টেবিলে অজিত দোভাল ও ওয়াং ই

ভারত ও চীনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদ মেটাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় ফের একবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হতে চলেছে। বিশেষ প্রতিনিধি (Special Representatives) মেকানিজমের আওতায় আলোচনা চালাতে সোমবার চীন সফরে গেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত দোভাল। মঙ্গলবার বেজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিশেষ প্রতিনিধি ওয়াং ই-র সঙ্গে তাঁর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধের সুরাহা খুঁজতে ২০০৩ সালে এই বিশেষ প্রতিনিধি পরিকাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল। কেন এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম?আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। এই সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারতে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই সফর চূড়ান্ত হয়, তবে তা হবে গত সাত বছরে শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। তার ঠিক আগে অজিত দোভালের এই ব্রেজিং সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি (LAC)-র বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে সেনা সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের এই আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। লাদাখ সংঘাতের অতীত এবং সম্পর্কের পটপরিবর্তন২০২০ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে ২০২৪ সালের শরৎকাল পর্যন্ত পূর্ব লাদাখ সীমান্তে দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সেনা বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে তলানিতে ঠেকেছিল। তবে গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশই লাদাখ সংঘাতে ইতি টানতে একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছায়। এরপর রাশিয়ার কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের পর থেকেই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কৈশলাযোগ মিলিয়ে কৈলাশ মানস্রোবর যাত্রা পুনরায় শুরু, সরাসরি বিমান চলাচল ও চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এলএসি-র প্রকৃত সেনা অপসারণ বা স্থায়ী শান্তি নিয়ে এখনও অনেক পথ চলা বাকি রয়েছে। কী বার্তা দিচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী?সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সীমান্ত এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতাই নির্ধারণ করবে ভারত-চীন সামগ্রিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। গত ৬ আগস্ট নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-চীন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়কারী মেকানিজম (WMCC)-এর বৈঠকের রেশ ধরেই অজিত দোভালের এই চীন সফর। এখন দেখার বিষয়, ২৫তম দফার এই বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, টহলদারি এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ ফেরাতে কোনো সুনির্দিষ্ট ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে কি না দুই দেশ।