সৌদির ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেল ইরান! মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কি নতুন সমীকরণ?

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উদ্যোগে গঠিত কৌশলগত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেল ইরান। লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদীন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহেদি রহিমী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এল, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী এই ‘মক্কা চুক্তি’?
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ন্যাটো (NATO)-র আর্টিকেল ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তির মূল শর্ত হলো— সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ মানেই বাকি দেশগুলোর ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে। এর মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তেহরান এই প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের ঠিক প্রাক্কালে এই আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও গুরুত্ব
ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। এমন একটি সময়ে এই চুক্তির প্রস্তাব আসা এবং ইরানের ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করাকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে তেহরান। মেহেদি রহিমী দাবি করেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার এই উদ্যোগ বহুদিন ধরেই চেয়েছিল ইরান।

এদিকে, এই খবরটি এখনও সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক বা ইরানের আনুষ্ঠানিক পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনার জল্পনার মাঝে এই সম্ভাব্য পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *