রংপুরে এক পরিবারের চারজনকে খুন! মাদক সেবনে বাধা দেওয়াই কাল? উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাংলাদেশের রংপুর মহানগরে একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামনে এল লোমহর্ষক সব তথ্য। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার ফলেই ওই শিক্ষক পরিবারকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিল।
গত শনিবার রংপুরের একটি বাড়ি থেকে জেলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৩) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরের ভেতর গণপতি ও তাঁর ছেলের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় পুলিশ আগেই ধারণা করেছিল যে তাঁদের শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস সম্পর্কে দুই খুড়তুতো ভাই এবং তাঁরা ওই শিক্ষকের বাড়ির কাছেই থাকতেন। ঘটনার দিন তারা গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির দোতলার ছাদে উঠে ‘ইয়াবা’ সেবন করছিল। ছাদ থেকে শব্দ পেয়ে শিক্ষক গণপতিবাবু দোতলায় গিয়ে তাদের মাদক সেবনে বাধা দেন। এরপরই অভিযুক্তরা তোয়ালে দিয়ে তাঁর শ্বাসরোধ করে খুন করে। স্বামীর চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা সিঁড়িতে আসায় তাঁকেও খুন করা হয়। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এরপর একে একে তাদের মেয়ে এবং অপর এক কিশোরকেও একই কায়দায় শেষ করে দেয় অভিযুক্তরা।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, খুনের পর অপরাধী দুই ভাই সঙ্গে সঙ্গে পালিয়ে যায়নি। প্রমাণ লোপাটের জন্য তারা ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ডাকাতির রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর বাড়ির ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা খেয়ে স্নান করে এবং মৃতদের মোবাইল ফোনগুলো ডিটারজেন্ট মেশানো জলে ডুবিয়ে রাখে। ঘরের টেবিলে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং সোনার চুড়ি পরীক্ষা করার চেষ্টার প্রমাণ পাওয়ার পরই পুলিশ ওই দুজনকে শনাক্ত করে জালে তোলে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।