ডুরান্ড ফাইনালে ডার্বির মহাতাণ্ডব! মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করে চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

রবিবাসরীয় যুবভারতী স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল একপেশে এবং ঐতিহাসিক এক ডার্বির। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হলো ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। এডমন্ড লালরিনডিকার বিধ্বংসী হ্যাটট্রিক এবং বিপিনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রথমার্ধেই ম্যাচ একপ্রকার নিজেদের মুঠোয় পুরে নেয় লাল-হলুদ ব্রিগেড। আর এই লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের জেরে খেলা শেষ হওয়ার অনেক আগেই গ্যালারি ছেড়ে মুখ লুকিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়তে শুরু করেন হতাশ মোহনবাগান সমর্থকরা।
কীভাবে এল এই দুর্দান্ত জয়? চলতি মরসুমের প্রথম ডার্বির আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে মাঠে নামলেও খেতাবের মহারণে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় সবুজ-মেরুন (Mohun Bagan) রক্ষণ। ম্যাচের শুরুতেই ১০ মিনিটে শুভাশিস বসুকে পরাস্ত করে বিপিন সিংয়ের শটে প্রথম গোল পায় ইস্টবেঙ্গল। ঠিক তার দু’মিনিট পরেই, অর্থাৎ ১২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এডমুন্ডের রকেট গতির শটে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। এরপর ২২ মিনিটে ডিফেন্ডার ও গোলকিপার বিশাল কাইথকে বোকা বানিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন এডমন্ড।
৩৩ মিনিটে মনবীর সিং একটি গোল শোধ করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও, ৪৪ মিনিটে জয় গুপ্তর পাসে নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের চতুর্থ গোলটি করে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে দেন এডমুন্ড। বিরতির আগেই ৪-১ ফলাফল দেখে মাঠ ছাড়ার হিড়িক পড়ে যায় বাগান শিবিরে।
২৯ বছর আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৭ সালের সেই ঐতিহাসিক ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালের কথা, যেখানে বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিকে ঠিক এই ৪-১ ব্যবধানেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়েছিল লাল-হলুদ। দীর্ঘ ২৯ বছর পর সেই একই ইতিহাস ফিরিয়ে এনে লাল-হলুদের নতুন আইকন হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন এডমন্ড। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত ইস্টবেঙ্গল, তবে ৪-১ স্কোরেই খেলা শেষ হয়। প্রথম ম্যাচের হারের সমস্ত জ্বালা মিটিয়ে এদিন ট্রফি উঁচিয়ে ধরে উল্লাসে ফেটে পড়ে লাল-হলুদ শিবির।