বিপদের দিনে ফের ‘ক্রাইসিস ম্যান’ শাহবাজ ও সুদীপের জোড়া সেঞ্চুরি! দুর্দান্ত ছন্দে জমজমাট দলীপ ট্রফি

সাদা বলের ক্রিকেটে আগেই শোরগোল ফেলে দিয়েছিল সে। কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে বিস্ময় কিশোর বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Sooryavanshi) পারফরম্যান্স কেমন হয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা খোদ রাহুল দ্রাবিড় পর্যন্ত তাঁর টেস্ট খেলার সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছিলেন। তবে দলীপ ট্রফি ২০২৬-এর (Duleep Trophy 2026) শুরুটা একেবারেই ভালো হলো না পূর্বাঞ্চলের সহ-অধিনায়ক বৈভবের। অন্যদিকে, বৈভবের ব্যর্থতার দিনে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করে আলো কাড়লেন বাংলার দুই তারকা ক্রিকেটার— সুদীপ ঘরামি ও শাহবাজ আমেদ। দুজনই অনবদ্য সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের ইনিংস শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন।
মাত্র ৮ রান করে আউট বৈভব: বেঙ্গালুরুতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে পূর্বাঞ্চলের দলীপ অভিযান। বাংলার অভিমন্যু ঈশ্বরণের সঙ্গে ইনিং শুরু করতে নেমেছিলেন বৈভব। শুরুটা আগ্রাসী মেজাজে করে ডানহাতি পেসার বিশ্বরজিৎ কোনথাউজামের বিরুদ্ধে জোড়া বাউন্ডারিও হাঁকান। কিন্তু ক্রিজে তাঁর আয়ু ছিল মাত্র ৬ বল! মাত্র ৮ রান করেই সেই কোনথাউজামের বলেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বিহারের এই তরুণ সেনসেশন।
সুদীপ ও শাহবাজের জোড়া সেঞ্চুরি: বৈভবের মতো তারকার দ্রুত পতনের পর পূর্বাঞ্চলের ইনিংসের হাল ধরেন বাংলার দুই ব্যাটার। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সুদীপ ঘরামি ১৮৫ বলে ১৪৬ রানের এক ঝলমলে ও দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, চাপের মুখে বরাবরই আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘ক্রাইসিস ম্যান’ শাহবাজ আমেদ সাত নম্বরে নেমে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন এবং ১০০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। এছাড়া কুমার কুশাগ্রও দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ৫৫ রান করেন। প্রথম দিনের শেষে পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৮০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫৫ রান। উত্তর পূর্বাঞ্চলের হয়ে ফেইরোইজাম যতীন তিনটি উইকেট শিকার করেছেন। বৈভবের ব্যর্থতার দিনে বাংলার দুই ক্রিকেটারের এই শতরান এখন ক্রিকেট মহলে অন্যতম চর্চার বিষয়।