মেয়ের উচ্চশিক্ষা বা বিয়ে নিয়ে চিন্তায়? প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা জমিয়ে পান ২৭ লক্ষ টাকার বাম্পার রিটার্ন!

নিজের কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে এবং তার উচ্চশিক্ষা কিংবা বিয়ের জন্য বড় অঙ্কের তহবিল গড়ে তুলতে ভারতীয় অভিভাবকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’ (Sukanya Samriddhi Yojana)। সরকার পরিচালিত এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে শুধু উচ্চ সুদের হারই পাওয়া যায় না, এর সঙ্গে মেলে বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি সুদের আকর্ষণীয় সুবিধা। বর্তমানে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে।

মাসে ৫,০০০ টাকা বিনিয়োগে মেয়াদপূর্তিতে কত মিলবে?
যদি কোনো অভিভাবক এই যোজনায় প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করেন, তবে বছরে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার টাকা। এই প্রকল্পের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে প্রথম ১৫ বছর নিয়মিত টাকা জমা করতে হয়। আর অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে ঠিক ২১ বছর পর স্কিমের মেয়াদ পূর্ণ হয়।

এর অর্থ হলো, শেষ ৬ বছর আপনাকে নতুন করে কোনো টাকা জমা দিতে হবে না, কিন্তু আগে জমাকৃত অর্থের ওপর সরকার নির্ধারিত চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ পেতে থাকবেন। বর্তমান ৮.২% সুদের হার সম্পূর্ণ মেয়াদে অপরিবর্তিত থাকলে, ১৫ বছরে আপনার মোট মূলধন দাঁড়াবে ৯ লক্ষ টাকা। আর ২১ বছরের মেয়াদপূর্তিতে সুদে-আসলে সেই জমার পরিমাণ গিয়ে পৌঁছাতে পারে প্রায় ২৭ থেকে ২৮ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

যোগ্যতা: ১০ বছরের কম বয়সী যেকোনো কন্যাসন্তানের নামে তার বাবা-মা বা আইনি অভিভাবক এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এক পরিবারে সর্বোচ্চ দুটি কন্যাসন্তানের জন্য এই সুবিধা পাওয়া যায়।

বিনিয়োগের সীমা: একটি অর্থবর্ষে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা করা সম্ভব।

কর ছাড়ের সুবিধা: আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে কর ছাড়ের বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।

আংশিক তোলার সুযোগ: কন্যাসন্তানের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে বা সে দশম শ্রেণি পাস করার পর উচ্চশিক্ষার খরচের জন্য জমাকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তোলার অনুমতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি ত্রৈমাসিকে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার পর্যালোচনা করে থাকে। তাই ২১ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে সুদের হার পরিবর্তিত হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত রিটার্নের অঙ্ক কম বা বেশি হতে পারে। যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার বাজেট ও আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করে এগোনোই শ্রেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *