চিনির বাজারে ভয়াবহ সংকট! ভারত থেকে ব্রাজিল—সব দেশেই কেন আকাশছোঁয়া দাম?

মধ্যবিত্তের রান্নাঘরের খরচ ফের একবার বড়সড় চাপের মুখে। বাজারে চড়তে শুরু করেছে চিনির দাম। সরকারের তরফ থেকে বারবার ইথানলের সঙ্গে চিনির দাম বাড়ার কোনো যোগ নেই বলে দাবি করা হলেও, বাজারে চিনির ঘাটতি ও লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েই এখন চিনির বাজার বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি।

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কী কী কারণ?
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চিনির বর্তমান দাম বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, আখ উৎপাদনে প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চলতি মরসুমে চিনির উৎপাদন প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন (এলএমটি) হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা আগে প্রায় ৩৪৩ এলএমটি অনুমান করা হয়েছিল। রেড রট এবং টপ বোরার নামক রোগ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আখের ফসল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাশাপাশি, উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে চাহিদা বৃদ্ধি এবং কিছু ব্যবসায়ীর একাংশের মধ্যে মজুতদারি ও ফটকাবাজির প্রবণতাও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। তবে সরকার দাবি করেছে, নতুন মাড়াই মরসুম শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে চিনির বাজারে অস্থিরতা:
এই সংকট শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বজুড়েই চিনির সরবরাহ শৃঙ্খল বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম আখ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিল (যা মোট উৎপাদনের ২৪% করে) বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে। দেশটির জাতীয় সরবরাহকারী সংস্থা ‘কোনাব’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন প্রায় ৩% কমে যেতে পারে।

ব্রাজিলের এই সংকটের অন্যতম বড় কারণ তাদের পরিবর্তিত ইথানল নীতি। অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে ব্রাজিল সরকার ইথানল উৎপাদনের দিকে বেশি জোর দিচ্ছে। জুলাই মাসের শেষের দিকে বাধ্যতামূলক ইথানল মিশ্রণের হার বাড়িয়ে ৩২%-এ উন্নীত করা হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ২৭%। এর ফলে চিনি তৈরির আখ সোজা চলে যাচ্ছে ইথানল কারখানায়, যার জেরে বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ আরও কমে গেছে।

প্রকৃতির কোপ এবং এল নিনো ফ্যাক্টর:
বিশ্বব্যাপী চিনির বাজারে আগুন লাগানোর পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া ও শক্তিশালী ‘এল নিনো’। এর জেরে ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান আখ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দেরিতে বৃষ্টির মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব বাজারের ফিউচার মূল্য বর্তমানে বহু মাসের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আগামী দিনে আখ এবং সুগার বিটের চাষ আরও কমলে বিশ্বজুড়ে চিনির এই ঘাটতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *