রাতে খেলেন রুটি-বেগুনের ভর্তা, সকালেই বাড়ি থেকে উদ্ধার তিন বোনের নিথর দেহ! রহস্যে কাঁপছে এলাকা

ডিনারে রুটি আর বেগুনের ভর্তা খেয়ে একসঙ্গে ঘুমাতে গিয়েছিল তিন বোন। কিন্তু পরদিনই সেই তিন শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার হলো বাড়ির পাশ থেকে। পুলিশকে না জানিয়ে মৃতদেহ মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠেছেন প্রতিবেশীরা।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুরের পিপোরা খুর্দ গ্রামে। বালমুকুন্দ কুশওয়া নামক এক ব্যক্তির তিন মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। মৃতদের বয়স যথাক্রমে সাত বছর, তিন বছর এবং সবথেকে ছোট শিশুকন্যাটির বয়স মাত্র ন’মাস।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতে তিন বোন একসঙ্গে রুটি এবং বেগুন ভর্তা খেয়েছিল। তবে এই খাবারের কারণেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি হলো কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তিনটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

শনিবার সকালেই স্থানীয় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তাঁরা দেখতে পান, বাড়ির আশেপাশে মাটি খুঁড়ে কিছু একটা পুঁতে ফেলার চেষ্টা চলছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে মাটির তলায় তিন কন্যার দেহ লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। তড়িঘড়ি প্রতিবেশীরাই পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ এবং চিকিৎসকদের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শুরু হয় মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধারের কাজ এবং ফরেন্সিক তদন্ত। পরিবারের সদস্যদের ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার আগের কয়েক ঘণ্টায় ঠিক কী ঘটেছিল, শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল কি না, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, দেহগুলো উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশকে না জানিয়ে কেন তড়িঘড়ি দেহগুলো মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা হলো, সেই প্রশ্নটিই এখন তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। পরিবারের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *