পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় ধামাকা: শেহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা!

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার ক্রমশ গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ছে। শাসক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP)-র সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলিও এবার একজোট হওয়ার পথে পা বাড়িয়েছে। ফলে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ইমরান খানের চিকিৎসা ও আইনি বিতর্ক এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে সরকারের ভূমিকা ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ১৮ অগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, আদিয়ালা জেল থেকে ইমরান খানকে দু’দিনের মধ্যে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা করার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

কিন্তু ওই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় পাকিস্তান সরকার। সরকারের যুক্তি ছিল, ইমরানকে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নয়, বরং সরকারি হাসপাতালেই পরীক্ষা করানো উচিত। শেষ পর্যন্ত আদিয়ালা জেল থেকে ইমরান খানকে বের করা হলেও তাঁকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। পরিবর্তে তাঁকে ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতাল পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর একাধিক শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁকে ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সরকারের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ ও জোটের টানাপড়েন এই শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইমরানের পরিবার এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সরাসরি অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে নিজেদের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছে শাসক শিবির। সরকারের এই কথিত নির্দেশ অমান্যের বিষয়টি আদালতে গড়ালে শেহবাজ প্রশাসন বড় ধরনের আইনি বিপাকে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এরই মধ্যে শাসক জোটের অন্দরেও রাজনৈতিক চাপ চরম আকার ধারণ করেছে। শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N) সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই নিজেদের অবস্থান কঠোর করেছে পিপিপি। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের দাবিগুলির সন্তোষজনক সমাধান না হলে সেনেট বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সরকারের কোনো বিলকেই সমর্থন করবে না তাঁর দল।

সংসদীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গেও ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন বিলাওয়াল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পিএমএল-এনের সঙ্গে কোনো ‘প্রকৃত জোট’ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন প্রদেশ গঠনের প্রসঙ্গটি দুই দলের বিরোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিলাওয়ালের স্পষ্ট বক্তব্য, নতুন প্রদেশ তৈরির মতো বড় সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত; কোনোমতেই বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এমন পদক্ষেপ চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

পিএমএল-এন নেতৃত্বাধীন সরকারের টিকে থাকার ক্ষেত্রে পিপিপির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুই দলের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত আগামী দিনে সংসদে শেহবাজ সরকারের অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে এবং পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে পারে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *