ইউটিউবের দিন কি শেষ? বাজার কাঁপাতে আসছে চিনা সেনসেশন ‘বিলিবিলি’!

গুগল তথা ইউটিউবের একচ্ছত্র আধিপত্যে এবার বড়সড় ধাক্কা দিতে গ্লোবাল বাজারে পা রাখতে চলেছে নতুন এক ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। চিনের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ভিডিও প্ল্যাটফর্মটির নাম ‘বিলিবিলি’ (Bilibili)। ইউজারদের জন্য ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ—উভয় ভার্সনেই উপলব্ধ এই প্ল্যাটফর্মটি এখন নিজেদের পরিসর বাড়াতে অফিশিয়ালি ইংরেজি ভাষায় রূপান্তরিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে।
কী এই বিলিবিলি? প্রযুক্তিগত দিক থেকে ইউটিউবের সঙ্গে বিলিবিলির ফিচারগত খুব বেশি ফারাক না থাকলেও, এর বিজনেস পজিশনিং বা ব্যবসার ধরনটি অনেকটাই আলাদা। এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত আজকের প্রজন্মের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত এই চিনা সংস্থার ব্যবসা মূলত চিনেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এবার তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের মেলে ধরতে চলেছে। আর সেই লক্ষ্যেই লস অ্যাঞ্জেলস, লন্ডন, মেক্সিকো সিটি, সাও পাওলো, ইস্তানবুল এবং টোকিওর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বড় পরিসরে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সংস্থাটি।
কী ধরনের কনটেন্ট মিলবে? ইউটিউবের মতোই ব্যবহারকারীরা এখানে নানাবিধ কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন। অ্যানিমেশন কনটেন্ট থেকে শুরু করে বিনোদন, গেমিং এবং অন্যান্য পছন্দসই ভিডিও—সবকিছুই থাকবে এই প্ল্যাটফর্মে। বিশেষ ব্যাপার হলো, এটি পুরোপুরি ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট (UGC) মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অর্থাৎ, বিলিবিলি নিজে থেকে কোনো কনটেন্ট তৈরি করে না, ব্যবহারকারী ও ক্রিয়েটররাই এর মূল চালিকাশক্তি।
ইউটিউবকে এক ইঞ্চিও ছাড় দিতে নারাজ এই চিনা সংস্থাটি বেশ আক্রমণাত্মক বা অ্যাগ্রেসিভ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠে নামছে। বিশ্বজুড়ে নামী ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে টানতে এবং তাঁদের অত্যন্ত আকর্ষক পারিশ্রমিক দিতেও পিছপা হচ্ছে না তারা। সূত্রের খবর, ইউটিউবের গ্লোবাল ইনফ্লুয়েন্সারদের খুব দ্রুত নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার জন্য বড় অঙ্কের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
ভারতে কি মিলবে এই অ্যাপ? বিশ্বব্যাপী গ্লোবাল লঞ্চ হলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতেও এই প্ল্যাটফর্মটি আসার কথা। তবে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গিয়েছে। ২০২০-২০২১ সালের পর থেকে কেন্দ্র সরকারের কঠোর নির্দেশিকায় টিকটকসহ একাধিক চিনা অ্যাপের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ফলে ভারতের বাজারে এই চিনা প্ল্যাটফর্মটি আদৌ ছাড়পত্র পাবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এটি অ্যাক্সেস করা সম্ভব হলেও বর্তমানে এর পুরো ইন্টারফেস ও ভিডিওগুলি সম্পূর্ণ চিনা ভাষাতেই রয়েছে। গ্লোবাল লঞ্চের পর এই ছবিটা কতটা বদলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।