‘মাকে একসঙ্গে রাখা যাবে না জেনেই বিয়ে ভাঙলাম!’ হবু স্বামীর প্রস্তাবে না করলেন তরুণী

বিয়ে মানেই দুটি মানুষের মেলবন্ধন নয়, বরং দুটি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগেই যদি এমন কোনো শর্ত সামনে আসে যা নিয়ে হবু দম্পতির মধ্যে আগে কোনো আলোচনা হয়নি, তবে কী হবে? সম্প্রতি এমনই এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এক তরুণী। হবু স্বামীর বৃদ্ধ মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে হবে—এমন কথা জানতে পেরেই বিয়ের প্রস্তাব এককথায় প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

এক্স (পূর্বের টুইটার)-এর এক ব্যবহারকারী @miacluv নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে লিখেছেন, হবু স্বামী তাঁকে জানিয়েছিলেন, “তিনি বৃদ্ধ। আমি আর কী করতে পারি?” তরুণীর স্পষ্ট বক্তব্য, স্বামী নিজের মায়ের দেখাশোনা করবেন—এতে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি এমন কোনো বাড়তি দায়িত্ব বা বোঝাপড়ার অংশ হতে চান না, যে বিষয়ে তাঁর নিজের কোনো সম্মতি বা মতামত নেওয়া হয়নি। ওই তরুণীর কথায়, “মায়ের দেখাশোনা অবশ্যই করুন। শুধু এমন কোনো সিদ্ধান্তের জন্য আমাকে জবাবদিহি বা দায়িত্বশীল করবেন না, যে সিদ্ধান্ত আমি নিজে নিইনি।”

‘স্বার্থপর’ তকমা ও নেটদুনিয়ায় মতভেদ তরুণীর এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তি তাঁকে “স্বার্থপর” বলে কটূক্তি করেন। নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তরুণী জানান, বিয়ে মানেই অন্ধভাবে এমন সব দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নেওয়া নয়, যার বিষয়ে বিয়ের আগে দু’পক্ষের মধ্যে কোনো আলোচনা বা পারস্পরিক সম্মতি ছিল না। তাঁর কড়া মন্তব্য, “প্রতিটি ভালো ছেলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন ভালো স্বামী হয়ে উঠবে, এমন কোনো কথা নেই।”

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকেই তরুণীর এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্যক্তিগত সীমারেখা’ বা পার্সোনাল বাউন্ডারি বজায় রাখার একটি দারুণ উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। আবার অন্যদিকে একদল সমালোচক মনে করছেন, নিজের বৃদ্ধ মায়ের দায়িত্ব নিতে পিছপা না হওয়া এক ছেলেকে প্রত্যাখ্যান করে তরুণী ভুল করেছেন। তবে সব মিলিয়ে, বিয়ের আগে এই ধরণের শর্ত ও মতপার্থক্য যে আধুনিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে, তা নিয়ে নেটপাড়ায় জোর চর্চা চলছে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *