স্বাস্থ্যসাথী, আয়ুষ্মান না মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা? হাসপাতালে গেলে কোন বিমায় চিকিৎসা?

এই মুহূর্তে রাজ্যে একসঙ্গে চালু রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী, আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার মতো একাধিক স্বাস্থ্য প্রকল্প। কিন্তু সাধারণ মানুষ চিকিৎসার্থে হাসপাতালে গেলে ঠিক কোন প্রকল্পের আওতায় পরিষেবা পাবেন, তা নিয়ে প্রায়শই নানা জটিলতা তৈরি হয়। এই বিভ্রান্তি চিরতরে দূর করতে এবার একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র বা SOP জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

কার্ড না থাকলে ফেরানো যাবে না রোগী

স্বাস্থ্য দফতরের নতুন নির্দেশিকায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরি না হলেও কিংবা ই-কেওয়াইসি (e-KYC) অসম্পূর্ণ থাকলেও শুধুমাত্র প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে তাঁদের হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানো যাবে না। কার্ড তৈরি বা যাচাইকরণ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেই চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হবে, যাতে চিকিৎসার মাঝপথে কোনও বাধা না আসে।

পাশাপাশি, চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কোনও উপভোক্তার ই-কেওয়াইসি অসম্পূর্ণ থাকলে হাসপাতালকেই দ্রুত এনএইচএ (NHA) পোর্টালের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কোন প্রক্রিয়ায় ঠিক হবে কোন প্রকল্পের সুবিধা?

নতুন এসওপি অনুযায়ী, হাসপাতালে রোগী পৌঁছানোর পর প্রাথমিক ধাপে স্বাস্থ্যসাথীর ‘ট্রানজাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ পোর্টালে তাঁর আধার তথ্য যাচাই করতে হবে। রোগী আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্য হলে এবং তাঁর কার্ড তৈরি থাকলে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে সেই স্কিমেই চিকিৎসা শুরু হবে। অন্যথায়, সরাসরি স্বাস্থ্যসাথী বিমার মাধ্যমে চিকিৎসা চলবে।

পোর্টালে কোনও টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিলে নির্দিষ্ট নিয়মে ‘ফেসিং ইস্যু’ বিকল্প বেছে নিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। আর যদি দুই প্রকল্পের কোনওটিতেই রোগীর নাম না থাকে, তবে তৎক্ষণাৎ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার ফর্ম পূরণ করিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী এবং তিন কোটিরও বেশি মানুষ আয়ুষ্মান ভারত পোর্টালে নথিভুক্ত রয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *