২২ বছরের খরা কাটল!, মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল

২২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ডুরান্ড কাপের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। রবিবারে কলকাতার ঐতিহাসিক সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মহাপ্রলয়করী কলকাতা ডার্বিতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেলায় পরাজিত করে লাল-হলুদ শিবির। ম্যাচের শুরু থেকেই চরম আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সবুজ-মেরুন রক্ষণকে তছনছ করে দেয় ইস্টবেঙ্গল। আর এই জয়ের ফলেই দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর মর্যাদাপূর্ণ এই ঐতিহ্যবাহী ট্রফি জিতল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলকে। প্রথম মিনিট থেকেই মোহনবাগানের রক্ষণভাগের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে লাল-হলুদ ফুটবলাররা। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় মহম্মদ রশিদের নিখুঁত পাস থেকে বল সংগ্রহ করে দলকে এগিয়ে দেন বিপিন সিং। মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি, যা স্টেডিয়ামে উপস্থিত লাল-হলুদ সমর্থকদের উল্লাসে মাতিয়ে তোলে।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দু’মিনিটের ব্যবধানে ফের গোল করে ব্যবধান বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের রক্ষণভাগকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে এডমুন্ড লালরিন্দিকা দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। দ্রুত গতিতে কাউন্টার অ্যাটাক এবং মোহনবাগানের ডিফেন্সের ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়েই একের পর এক ভয়ঙ্কর আক্রমণ শানাতে থাকে ইস্টবেঙ্গল।
এরপর ইস্টবেঙ্গলের অভিজ্ঞ কোচ আন্তোনিও হাবাস তাঁর দলকে একটু শান্ত হয়ে পজিশন ধরে খেলার নির্দেশ দেন। কোচের সেই কৌশল পুরোপুরি সফল হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ড্যানি রামিরেজের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় শট নেন এডমুন্ড। বিশাল কাইথকে আবারও পরাস্ত করে নিজের নামের পাশে দ্বিতীয় গোলটি যোগ করেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় মোহনবাগান। হাইড্রেশন ব্রেকে কোচ প্যানাইওতিস দিলমপেরিস দলকে একত্রিত করে প্রয়োজনীয় কৌশল বুঝিয়ে দেন। খেলা ফের শুরু হতেই আক্রমণ শানিয়ে একটি গোল শোধ করে মোহনবাগান। দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন তারকা ফরোয়ার্ড মনবীর সিং, যার ফলে খেলার ফলাফল দাঁড়ায় ২-১।
তবে গোল হজম করলেও ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা বা দাপট একটুও কমেনি। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে নিজের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড লালরিন্দিকা। মহম্মদ রশিদ ও জয় গুপ্তর দুর্দান্ত পাসিং কম্বিনেশনের পর বক্সের ভেতরে নিখুঁত ক্রস আসে। সেখান থেকে কোনো ভুল না করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন এই ভারতীয় ফরোয়ার্ড।
উল্লেখ্য, ডুরান্ড কাপের দীর্ঘ ইতিহাসে কলকাতা ডার্বির কোনো ফাইনালে এটিই প্রথম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড। পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের ক্লাবের জার্সিতে এটি দ্বিতীয় ডার্বি হ্যাটট্রিক। এর আগে ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপের স্মরণীয় সেমিফাইনালে এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন কিংবদন্তি ভাইচুং ভুটিয়া।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করে মোহনবাগান। কিন্তু কোচ আন্তোনিও হাবাসের নিখুঁত ডিফেন্সিভ লো ব্লক কৌশলে বারবার আটকে যায় সবুজ-মেরুনের আক্রমণভাগ। লাল-হলুদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভেদ করতে ব্যর্থ হন মোহনবাগানের ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের বাকি সময় জুড়ে বলের দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেই খেলা পরিচালনা করে ইস্টবেঙ্গল।
শেষ পর্যন্ত পূর্ণ সময় শেষে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইস্টবেঙ্গল। কলকাতার ময়দানে এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন এই টুর্নামেন্টে আরও একবার নিজেদের সোনালী ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাল লাল-হলুদ ব্রিগেড।
(ডিসক্লেইমার: এখানে প্রদত্ত তথ্য ক্রীড়া সংবাদ এবং প্রচলিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।)