‘শোম্যান’ তকমা শুনলেই মেজাজ হারান সুভাষ ঘাই! এই বিশেষ উপাধিকে সোজাসাপ্টা ‘বকওয়াস’ বললেন বর্ষীয়ান পরিচালক

‘শোম্যান’ তকমা একেবারেই পছন্দ নয়! নিজের নামের এই বিশেষ উপাধিকে সোজাসাপ্টা ‘বকওয়াস’ বললেন সুভাষ ঘাই
নিজস্ব বিনোদন ডেস্ক: বলিউডে তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একের পর এক কালজয়ী ও জনপ্রিয় ছবি। ‘কার্জ’, ‘হিরো’, ‘রাম লক্ষ্মণ’, ‘খলনায়ক’, ‘পরদেশ’, কিংবা ‘তাল’-এর মতো ছবি তৈরি করে হিন্দি সিনেমার দুনিয়ায় নিজের একটি শক্ত ও স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন বর্ষীয়ান পরিচালক সুভাষ ঘাই। তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের ছবির গান, জমজমাট গল্প এবং তারকাদের নজরকাড়া উপস্থাপনা দশকের পর দশক ধরে দর্শকের মনে বিশেষ ছাপ ফেলে এসেছে। কিন্তু এত সাফল্যের পরেও নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে থাকা ‘শোম্যান’ তকমাটি একেবারেই পছন্দ করেন না ৮১ বছর বয়সি এই পরিচালক। বরং এই তকমাকে সোজাসাপ্টা ‘বকওয়াস’ বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
কেন এই তকমা পছন্দ নয় পরিচালকের?
বহু বছর ধরেই ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় ‘শোম্যান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে আসছে সুভাষ ঘাইকে। তবে তাঁর নিজের ভাবনা সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর স্পষ্ট কথা, তিনি কখনই নিজের জন্য এমন কোনও বড় বা বাড়তি তকমা তৈরি করতে চাননি। বরং নিজের অহংকারকে দূরে সরিয়ে রেখে তিনি সবসময় নিজেকে একজন সাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সিনেমার একনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবেই দেখতে ভালোবাসেন।
পরিচালকের মতে, ‘শোম্যান’ শব্দটির সঙ্গে তাঁর কোনও আগ্রহ বা অনুরাগ নেই। নিজের সম্পর্কে এই ধরনের বড় বড় তকমা তৈরি করা আসলে অপ্রয়োজনীয় অহংকারকে উসকে দেয়, যা তিনি কখনই চান না। তিনি নিজের অহংকারের মধ্যে বাঁচতে নারাজ, বরং প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার মাঝেই নিজের শান্তি খুঁজে পান।
৮১ বছর বয়সেও নতুন প্রজন্ম ও প্রযুক্তির খোঁজে
তাঁর মতে, চলচ্চিত্র এমন একটি মাধ্যম যেখানে শেখার কোনও শেষ নেই। সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের পছন্দ, সিনেমার প্রযুক্তি এবং গল্প বলার ধরনও সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে। তাই একজন সত্যিকারের নির্মাতাকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলাতে হয়। আর সেই তাগিদ থেকেই ৮১ বছর বয়সে এসেও তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
শুধু প্রযুক্তি সম্পর্কে জানাই নয়, বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে আগ্রহী। নিজের ফিল্ম ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে Gen-Z বা নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তাঁর সুদৃঢ় বিশ্বাস, শেখার প্রক্রিয়া কখনই একমুখী হতে পারে না। তরুণদের যেমন তিনি কিছু শেখাতে পারেন, তেমনই নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল মনন থেকেও তাঁর অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
অতীতের সাফল্যকে আঁকড়ে ধরে বসে না থেকে বর্তমান সময়কে এবং বদলে যাওয়া সিনেমার দুনিয়াকে নিখুঁতভাবে বোঝার চেষ্টাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবমিলিয়ে, যে মানুষটিকে দর্শকরা বছরের পর বছর ধরে ‘শোম্যান’ বলে চিনেছেন, তাঁর কাছে পরিচয়ের সবচেয়ে বড় জায়গাটি কোনও ভারী বিশেষণ নয়—তিনি কেবলই একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা, যিনি আজও শিখছেন এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নতুন ছন্দে পথ চলার চেষ্টা করছেন।