‘সারি কে ফল সা’ থেকে ‘রাক্কাম্মা’—একাধিক ভাষায় রাজত্ব করা জনপ্রিয় গায়ক নাকাশ আজিজের জার্নি শুনলে চমকে যাবেন!

বলিউড থেকে শুরু করে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি—একাধিক ভাষায় নিজের জাদুকরী কণ্ঠের জাদুতে জয় করে চলেছেন জনপ্রিয় গায়ক তথা সুরকার নাকাশ আজিজ। ‘সারি কে ফল সা’, ‘আফগান জলাবি’, ‘জাবরা ফ্যান’ কিংবা ‘রা রা রা রাক্কাম্মা’-র মতো একাধিক চার্টবাস্টার গান উপহার দিয়ে তিনি বর্তমানে প্যান-ইন্ডিয়া স্তরে এক বিরাট নাম। তবে এই জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছানোর রাস্তাটা এক দিনে তৈরি হয়নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই পরিবর্তনময় ও বর্ণময় সঙ্গীত সফর নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিয়েছেন এই তারকা।
হিন্দির পাশাপাশি তেলুগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম, বাংলা কিংবা গুজরাটি-মারাঠি—নানান ভাষায় গান গাওয়ার মুন্সিয়ানা প্রসঙ্গে নাকাশ জানান, এর নেপথ্যে রয়েছে নতুন কিছু করার অন্তহীন জেদ এবং প্রবল অনুপ্রেরণা। তাঁর কথায়, একটা স্বপ্ন নিয়ে মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে যাত্রা শেষ। বরং সেখান থেকেই আসল লড়াই শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বহুমুখী প্রতিভাবান মানুষদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
সংগীতের জগতে নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে কিংবদন্তি এআর রহমানের নাম সবার আগে উল্লেখ করেছেন নাকাশ। কেরিয়ারের শুরুতেই রহমানের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে বিরাট প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, হান্স জিমার বা লুডভিগ গোরানসনের মতো আন্তর্জাতিক সুরকারদের কাজের ধরনও তাঁকে সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে। এমনকি শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও অসাধ্য সাধনের জেদ থেকেও তিনি প্রেরণা পান বলে জানান।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন গান ‘হ্যায় রে হ্যায়’। এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে মারাঠি ছবির দুনিয়ায় পুষ্করজির পরিশ্রম ও নতুন কিছু করে দেখানোর বাসনারও প্রশংসা করেছেন গায়ক। জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই অর্থহীন বিষয়ে সময় নষ্ট না করে নিজের কাজের মাধ্যমে মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলই যে তাঁর মূল লক্ষ্য, সাক্ষাৎকারে সে কথাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন নাকাশ আজিজ।