‘আজ রাতভর তাণ্ডব চলবে!’ যাদবপুরের সংঘর্ষ ও এসএফআই নেতাকে প্রকাশ্যে চরম হুমকি বিজেপি বিধায়কের

যাদবপুরে অশান্তির আবহে বিস্ফোরক মন্তব্য কৌস্তভ বাগচীর, এসএফআই নেতাকে চরম হুমকি শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি (ABVP) এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি দীর্ঘক্ষণ ধরে অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে। এসএফআই-এর পতাকায় আগুন ধরানো, পোস্টার-ফেস্টুন ছেঁড়া এবং ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগের মধ্যেই দুই শিবিরের নেতাদের আক্রমণাত্মক মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার মূল বিষয়বস্তু ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
-
কৌস্তভ বাগচীর মন্তব্য: যাদবপুরের অশান্তির আবহে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী মন্তব্য করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট অংশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশবিরোধী চিন্তাভাবনা রয়েছে এবং যারা দেশের বিরুদ্ধাচারণ করবে তাদের ‘বাংলা ধোলাই’ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, এটা করা উচিত এবং যারা এই কাজ করবে তিনি তাদের সাধুবাদ জানাবেন ও পুরস্কৃত করবেন।
-
শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের হুমকি: অন্যদিকে, আহত এবিভিপি সমর্থকদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে উদ্দেশ করে বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় হুমকি দিয়ে বলেন, অভিযুক্তরা এক ঘণ্টার মধ্যে যাদবপুর থানায় আত্মসমর্পণ না করলে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন তাদের টেনে বার করা হবে। এমনকি তিনি “সারা রাত তাণ্ডব চলবে” বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
-
পাল্টা তোপ বাম শিবিরের: শর্বরীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সৃজন ভট্টাচার্য বলেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই এবং মাঝরাতে এই ধরনের গুন্ডামি করার কী প্রয়োজন রয়েছে।
-
সংঘর্ষের সূত্রপাত: গত বুধবার রাতে এফইটিএসইউ (FETSU)-র উদ্যোগে একটি সাধারণ সভা চলাকালীন প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধর ও তাণ্ডবের অভিযোগ এনেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যাদবপুরের এই অশান্ত পরিবেশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের পরস্পরবিরোধী ও উত্তেজনামূলক মন্তব্যের জেরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।