যাদবপুর কাণ্ডে বিজেপির হাত নেই? শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবিকে ঘিরে বাম শিবিরের কড়া আক্রমণ!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ঘটনায় দলের কোনো ধরনের যোগ নেই বলে স্পষ্ট দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপির নিজস্ব কোনো ছাত্র সংগঠন নেই এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) মূলত আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন। তবে শমীকের এই মন্তব্যের পরই তাঁকে তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষে বিদ্ধ করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম।
আলিমুদ্দিনে শমীককে কড়া আক্রমণ সেলিমের
বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখোমুখি হয়ে মহম্মদ সেলিম সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, যাদবপুরের ঘটনায় যদি বিজেপির কোনো যোগই না থাকে, তবে গভীর রাতে সেখানে বিজেপির বিধায়ক কেন উপস্থিত হয়েছিলেন? তাঁর কটাক্ষ, যেহেতু মূল ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে, তাই সেটি বাইরেই ঘটবে—ভিতরে তো আর কোনো বিজেপি পন্থী ছাত্র নেই, তাঁদের জোর করে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে।
সেলিমের অভিযোগ, দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। জেএনইউ, যাদবপুর, জামিয়া মিলিয়া, আলিগড় থেকে শুরু করে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উৎকর্ষের কেন্দ্রগুলিকে কেন বারবার টার্গেট করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মুক্ত চিন্তা, জ্ঞান চর্চা এবং প্রশ্ন করার অধিকার যেখানে থাকে, সেখানেই ফ্যাসিবাদী শক্তির আপত্তি থাকে বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে আইআইটি, আইআইএম এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের মতো স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধিকার খর্ব করার চক্রান্ত চলছে বলেও অভিযোগ করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।
আরএসএস ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে ব্যঙ্গ
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে ব্যঙ্গ করে সেলিম বলেন, তিনি ভবিষ্যতে এমন দিনের অপেক্ষায় থাকবেন যেদিন হয়তো বিজেপি বলবে যে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের সঙ্গে তাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি যা বলেছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মত। এরপরই বিজেপি এবং আরএসএসের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আক্রমণ শানান তিনি। সেলিমের দাবি, এই দুই সংগঠনের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং বাস্তব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিস্তর ফারাক রয়েছে।
ইতিহাসের নানা প্রসঙ্গ টেনে এনে খিলাফত আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ের বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরেন সিপিএম নেতা। সবমিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাইরে বাম-ডান লড়াইয়ে তরজা এখন চরমে পৌঁছেছে।