CAA নীতিতে বড় ধাক্কা! এই রাজ্যগুলিতে কি কার্যকর হচ্ছে না নাগরিকত্ব আইন? জানুন কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা

নাগরিকত্ব আইন (CAA), ১৯৫৫-এর অধীনে চলতি বছরের একটি সরকারি নির্দেশিকা বেশ কিছু নির্দিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। গত ১৯ আগস্ট জারি করা এই নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৬বি ধারা এবং নাগরিকত্ব নিয়মাবলী, ২০০৯-এর ১১এ রুল অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোন কোন রাজ্যে প্রযোজ্য নয় এই নিয়ম?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের আগের একটি নির্দেশ—যা গত ১১ মার্চ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল—তা গুজরাট, রাজস্থান, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম (উপজাতি এলাকা ছাড়া), ত্রিপুরা (উপজাতি এলাকা ছাড়া), এবং জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রযোজ্য হবে না। এই নতুন নির্দেশের ফলে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এবং ২ মার্চের দুটি পূর্ববর্তী নির্দেশিকা বাতিল হয়ে গিয়েছে। তবে প্রশাসন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নির্দেশিকাগুলি বাতিল হওয়ার আগে এর অধীনে নেওয়া কোনো পদক্ষেপের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
জেলাশাসকদের হাতে আবেদনের দায়িত্ব
নতুন এই নির্দেশিকার ফলে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। এই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে নাগরিকত্ব আইনের ৬বি ধারার অধীনে এমপাওয়ার্ড কমিটি এবং ডিস্ট্রিক্ট লেভেল কমিটির কাছে যত আবেদন জমা পড়েছিল, সেগুলিকে এবার সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের (Collector) কাছে স্থানান্তরিত করে দেওয়া হবে। গুজরাট, রাজস্থান, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে জমে থাকা সমস্ত আবেদনের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট সরকারি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব আইনের ৬বি ধারায় আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ—যাঁরা নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করেন—তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সংস্থান রয়েছে। ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে এই ৬বি ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই সংশোধিত আইন বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকত্ব (সংশোধনী) নিয়মাবলী, ২০২৪ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়।