যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য! “যারা দেশবিরোধীদের ধোলাই দেবে, তাদের পুরস্কৃত করব”— হুঙ্কার কৌস্তভের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে চলা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংঘর্ষের আবহে পারদ চড়ল আরও। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ও ডানপন্থী ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনার মধ্যেই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। অন্যদিকে, কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে এসএফআই নেতাকে সরাসরি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

যাদবপুরের রাতের তাণ্ডব ও দুই শিবিরের সংঘর্ষ
গত বুধবার রাত থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়। FETSU-র উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়াদের একটি জেনারেল বডি মিটিং চলাকালীন সেখানে এক ABVP সদস্য গিয়ে ছাত্র সংসদ না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা ও হাতাহাতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে যে, এবিভিপি-র পক্ষ থেকে এসএফআইয়ের পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়, গ্রাফিটি মুছে ফেলা হয় এবং হস্টেলের গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যাদবপুর চত্বরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। একদিকে গোলপার্ক থেকে এবিভিপি মিছিল করে, অন্যদিকে ৮বি বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

কৌস্তভ বাগচীর মন্তব্য ও শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি
পরিস্থিতি যখন অগ্নিগর্ভ, ঠিক তখনই এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশবিরোধী চিন্তাভাবনা কাজ করছে। যারা দেশের বিরুদ্ধাচারণ করবে, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একদম বাংলা ধোলাই যাকে বলে, সেটা দেওয়া উচিত বলে আমার অন্তত মনে হয়। এটা করা উচিত এবং যারা করবে, তাদের আমি সাধুবাদ জানাব, পুরস্কৃত করব।”

অন্যদিকে, সংঘর্ষে আহত এবিভিপি সমর্থকদের দেখতে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে সরাসরি আক্রমণ করেন বিজেপি নেত্রী শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তরা যাদবপুর থানায় আত্মসমর্পণ না করলে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, টেনে বের করা হবে। পাশাপাশি “সারা রাত তাণ্ডব চলবে” বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সব মিলিয়ে যাদবপুরের এই অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এখন রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *