ছাত্র আন্দোলনে ভাগ বসাতে ব্যর্থ বিজেপি! এবার হেমন্ত সোরেন সরকারকে ঘিরতে কোন নতুন রণকৌশল নিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

ঝাড়খণ্ডে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে আসরে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সম্প্রতি দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড বিজেপির শীর্ষ নেতাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন লড়াইয়ের নতুন কৌশল নির্ধারণ করতেই এই বৈঠক বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন দুর্নীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আশানুরূপ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে না পারায় রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। কারণ, সেই আন্দোলনের কৃতিত্ব মূলত মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তরুণ ছাত্রনেতাদের দিকে চলে গিয়েছিল।

এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবার নতুন করে কোমর বাঁধছে বিজেপি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী দিনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং খনি আইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলিকে সামনে রেখে জেএমএম (JMM) সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াবে দল।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও খনি আইন নিয়ে তীব্র আক্রমণ বিজেপি শিবিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন পুনর্নির্ধারণের ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হবে। জেএমএম এই বিষয়টিকে আদিবাসীদের সংরক্ষিত আসন কমানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, পাল্টা বিজেপির দাবি—রাজ্যে আদিবাসী জনসংখ্যা হ্রাসের প্রকৃত কারণ দর্শাতে হবে সরকারকে। এর পাশাপাশি, ধর্মান্তকরণ এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যুগুলিকেও রাজ্যজুড়ে জোরালোভাবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

অন্যদিকে, খনি ও খনিজ সম্পদ সংশোধনী আইন নিয়েও হেমন্ত সোরেন সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইছে বিজেপি। জেএমএম এই আইনের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়ে দাবি করেছে যে, এটি রাজ্যগুলির অধিকার খর্ব করবে। তবে বিজেপির পাল্টা যুক্তি, এই আইন আসলে বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং লিথিয়াম ও কোবাল্টের মতো মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের নতুন পথ প্রশস্ত করবে। বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগের জলদি জবাব দিতে এবং প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল খুব শীঘ্রই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করতে চলেছেন। খনিজ সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিতে এই বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করবে বিজেপিও।

সিবিআই তদন্তের ভাবনা ও রাজনৈতিক সমীকরণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনাগুলির সত্যতা উন্মোচনে একমাত্র সিবিআই তদন্তই পথ দেখাতে পারে বলে মনে করছেন রাজ্য নেতারা। ফলে আইনি পথে সেই দাবি জোরালো করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক ময়দানে জেএমএম সরকারকে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিরোধী জোটের অন্দরের নানা জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আসন্ন দিনগুলিতে এই মেগা স্ট্র্যাটেজি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *