কলকাতার হোটেলগুলো কি মৃত্যুফাঁদ? মির্জা গালিব স্ট্রিট কাণ্ডের পর প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, গা শিউরে উঠবে!

মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পুরোনো বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার পর কলকাতার হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মধ্য ও উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকার হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতার পুরোনো বহুতল ও হোটেলের প্রধান সমস্যাগুলি:
-
সংকীর্ণ পথ ও একটিমাত্র সিঁড়ি: বেশিরভাগ পুরোনো বহুতলে মাত্র একটিমাত্র সিঁড়ি থাকে। সেটি বন্ধ হয়ে গেলে বা সেখানে পুরোনো আসবাবপত্র জমে থাকলে বেরোনোর আর কোনো পথ থাকে না।
-
অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থার অভাব: বহু হোটেলেই স্মোক অ্যালার্ম, স্প্রিংকলার বা পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশারের মতো জরুরি সুরক্ষা সরঞ্জাম থাকে না। তাছাড়া অধিকাংশ জানলাই লোহার গ্রিল দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
-
অবৈধ নির্মাণ ও লাইসেন্সহীন ব্যবসা: কম খরচে অধিক মুনাফার আশায় পুরোনো ভবনগুলিতে গায়ে গায়ে হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ফায়ার লাইসেন্স বা নিয়ম না মেনেই এগুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।
-
ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো: কালজীর্ণ বৈদ্যুতিক তার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে এই ধরনের ভবনগুলিতে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি সব সময় থেকেই যায়।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ:
এই দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কলকাতার দমকল দফতর ও পৌরসংস্থা ইতিমধ্যেই মির্জা গালিব স্ট্রিট, মারকুইস স্ট্রিট এবং সংলগ্ন এলাকার একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউসকে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছে। শহরের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নিসুরক্ষা বিধি খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বিশেষ পরামর্শ: পর্যটকদের একাংশের মতে, যেকোনো হেটেলে বুকিং করার আগে সেটির অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি বহির্গমন পথ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।