জবলপুর মেডিকেল কলেজে ১ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার দুর্নীতি! কেলেঙ্কারির এই কাণ্ড দেখে আকাশ থেকে পড়ছেন সকলে!

মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের ঐতিহ্যবাহী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে রোগী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালেরই পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে। পুলিশ ইতিমধ্যে এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এই পাঁচজন কর্মীর বিরুদ্ধে ওপিডি, আইপিডি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত নগদ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ফি তছরুপের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৮, ৩১৬ এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কীভাবে চলত এই জালিয়াতি? প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্তরা টাকা তছরুপের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছিল। ছাত্র ও রোগীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অর্থ আদায় করে তাদের সঠিক রসিদ দেওয়া হলেও, চালান এবং সরকারি নথিতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কম পরিমাণ অর্থ লিপিবদ্ধ করা হতো। এর ফলে সংগৃহীত প্রকৃত অর্থ এবং সরকারি অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া টাকার মধ্যে বড় ধরনের গরমিল তৈরি হতো, যা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কারোর নজরেই আসেনি।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মেডিকেল কলেজের ডিন ডঃ নবনীত সাক্সেনা এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রথম টের পান। হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা হাসপাতালের দৈনিক আয়ের সঙ্গে রেজিস্টারের তথ্য এবং ট্যালি সফটওয়্যারের তুলনা করতে গিয়েই গরমিল খুঁজে পান। এরপর ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকার গরমিল সামনে আসলেও, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও রসিদ বই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার পর আত্মসাৎকৃত মোট অর্থের পরিমাণ বেড়ে ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪৫৬ টাকায় পৌঁছায়।
গ্রেপ্তার ৩, পলাতক ২ মেডিকেল কলেজ প্রশাসনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ আগস্ট গাধা থানায় একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই অরবিন্দ ধ্রুবে, ভানু সিং সাকওয়ার এবং মনোহর কেওয়াতকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সাধনা চন্দ্রোল এবং বিশাল সারথে এখনও পলাতক রয়েছে। তাঁদের গোপন আস্তানায় হানা দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেনের ওপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রশাসনিক ও আর্থিক তদারকির ফাঁকফোকর কীভাবে বজায় থাকল, তা নিয়ে এখন তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।