ঘাস কাটতে গিয়ে ভয়ংকর পরিণতি! ১ মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন! অপরজনকে বেধড়ক মার

মালদার হরিশচন্দ্রপুর ব্লকের দৌলতনগর এলাকায় বাংলা-বিহার সীমানার কাছে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার জেরে গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘাস কাটার সময় দুই মহিলার ওপর অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি চড়াও হয় বলে অভিযোগ। এই বর্বরোচিত হামলায় চরম মারধর ও ধর্ষণের শিকার হন দুই মহিলা, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতনগরের বিহারের অহমেদাবাদ থানার নিকটবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দুই মহিলা প্রতিদিনের মতো গোবিন্দপুর অঞ্চলে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁদের পথ আটকায়। অভিযোগ, অভিযুক্ত জোর করে ওই মহিলাদের মধ্যে একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। দ্বিতীয় মহিলা বাধা দিতে গেলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রথম মহিলাকে জমিতে টানতে টানতে কাছাকাছি একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রথমে পাশবিক কায়দায় ধর্ষণ করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, আহত দ্বিতীয় মহিলা কোনোমতে সেই নরককুণ্ড থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি গ্রামে ফিরে এসে এলাকাবাসীকে সমস্ত ঘটনা জানান। তাঁর কথামতো গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং প্রথম মহিলার নিথর দেহ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মালদার হরিশচন্দ্রপুর এবং বিহারের অহমেদাবাদ থানার যৌথ পুলিশ বাহিনী। দুই রাজ্যের পুলিশ যৌথভাবে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।

ঘটনার আকস্মিকতা ও নৃশংসতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারি ও কঠোর শাস্তির দাবিতে তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং রাস্তা অবরোধ করেন। হরিশচন্দ্রপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম মহিলার মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মহিলাকে শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে এবং তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। এই লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *