বদলে গেল সিএএ-র নিয়ম! পশ্চিমবঙ্গসহ ৬ রাজ্যে নাগরিকত্ব দেওয়ার মূল চাবিকাঠি এখন জেলাশাসকদের হাতে

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ (CAA) নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এ বার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে এবং জটিলতা কমাতে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ছয়টি সীমান্ত লাগোয়া রাজ্যের জেলাশাসকদের হাতেই নাগরিকত্ব নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া হলো। কেন্দ্রের এই নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে এখন থেকে আবেদনকারীদের আর দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকতে হবে না।
নতুন নির্দেশিকার মূল কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯ সংশোধন করে ‘Citizenship (Third Amendment) Rules, 2026’ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই নতুন নিয়মে পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, অসম, ত্রিপুরা (আদিবাসী এলাকা বাদে) এবং জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের জেলাশাসকরা বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টররা এবার থেকে সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
কারা পাবেন এই সুবিধা? মূলত পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুরা যারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করেন, তাঁরাই এই আইনের আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। জেলাশাসক যদি আবেদনকারীকে যাবতীয় শর্তপূরণের ভিত্তিতে একজন “fit and proper person” বা উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে সন্তুষ্ট হন, তবেই তিনি সরাসরি ভারতীয় নাগরিকত্ব মঞ্জুর করতে পারবেন।
পুরানো ও নতুন ব্যবস্থার পার্থক্য এতদিন সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষমতা ছিল ‘এমপাওয়ারড কমিটি’ এবং ‘ডিস্ট্রিক্ট-লেভেল কমিটি’-র হাতে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওই কমিটিগুলির কাছে থাকা সমস্ত পেন্ডিং বা মুলতবি আবেদন এখন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও দ্রুত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য যে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই নাগরিকত্ব নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন। গত ১ আগস্ট নিউটাউনে ৩০০ জন আবেদনকারীর হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “নাগরিকত্ব কাড়ার জন্য নয়, দেওয়ার জন্যই এই আইন।” তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির পরেই কেন্দ্রের এই নতুন নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গের মত রাজ্যগুলোতে সিএএ কার্যকরের গতিকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।