‘দীপ্সিতা আমার কাছে অস্পৃশ্য নয়!’ যাদবপুর ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য কল্যাণের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ অব্যাহত। ইতিমধ্যেই উপাচার্যের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে এবং এই অশান্তির জল গড়িয়েছে বহুদূর। এর মধ্যেই এক অভাবনীয় রাজনৈতিক বার্তার মাধ্যমে নজর কেড়েছেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণত কড়া আক্রমণ শানাতে দেখা গেলেও, এই ঘটনায় তাঁর গলায় এক নরম সুর ও দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক শোনা গেছে।
কী বলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তার মাধ্যমে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, যাদবপুরে যা ঘটছে তা আদতে এক গভীর ষড়যন্ত্র। তাঁর কথায়, ‘‘যাদবপুরে যা হচ্ছে ও রোজ যা হচ্ছে, এরা সব বিজেপির ইনপুট করা শক্তি। এরা সব দখল করতে চাইছে। আমার মনে হয়, বিজেপি বিরোধী পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচানোর জন্য সবাইকে এক হতে হবে। আপনি মার্ক্সকে মানেন, না আপনি লেনিনকে মানেন, না আপনি গান্ধীকে মানেন, না মমতাকে মানেন—সেগুলো পরের ব্যাপার।’’
বিশেষ করে ডিওয়াইএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধর এবং এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। কল্যাণ বলেন, ‘‘দীপ্সিতা আমার কাছে অস্পৃশ্য নয়, দীপ্সিতাদের কাছে আমিও অস্পৃশ্য নই। ওর কিছু হলে আমার পাশে দাঁড়ানো উচিত, আমাদের কিছু হলে ওদের পাশে দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত।’’ এছাড়া সৃজন ভট্টাচার্য যেভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তার প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে।
আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ্য, যাদবপুরের এই অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশকর্মীদের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া এবং ধাক্কাধাক্কির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এই বিষয়ে নানা মত প্রকাশ করলেও, তৃণমূল সাংসদের এই অরাজনৈতিক ও সহমর্মিতার বার্তা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।