২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ওয়েটিং! টাটা পাঞ্চ কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে ক্রেতারা, কোন মডেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?

আপনি কি চলতি মাসেই একটি নতুন টাটা পাঞ্চ বাড়ি নিয়ে আসার কথা ভাবছেন? যদি পরিকল্পনা থেকে থাকে, তবে গাড়িটির ডেলিভারি পেতে আপনাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। জনপ্রিয়তার নিরিখে রেকর্ড গড়া এই কমপ্যাক্ট এসইউভিটির বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের জন্য ওয়েটিং পিরিয়ডের তালিকা প্রকাশ করেছে টাটা মোটরস। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট মডেলের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের প্রায় ২৪ সপ্তাহ বা প্রায় ১৬৮ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

কোন ভ্যারিয়েন্টের জন্য কত দিন অপেক্ষা?
টাটা পাঞ্চ পেট্রোল স্মার্ট এবং সিএনজি স্মার্ট ভ্যারিয়েন্ট বুক করলে গাড়ি হাতে পেতে প্রায় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, পেট্রোল এবং সিএনজির অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টগুলোর ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় তুলনামূলক কম, প্রায় ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ।

তবে আপনি যদি পাঞ্চ ইভি কেনার কথা ভেবে থাকেন, তবে সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হবে স্মার্ট ৩০ ভ্যারিয়েন্টের ক্রেতাদের। এই নির্দিষ্ট মডেলটির জন্য প্রায় ১৮ থেকে ২৪ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে। পাশাপাশি, পাঞ্চ ইভি-র বাকি ভ্যারিয়েন্টগুলোর জন্য যথাক্রমে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ এবং ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ ওয়েটিং পিরিয়ড রয়েছে।

নতুন রূপে আরও আকর্ষক টাটা পাঞ্চ
বাজারে নিজের বক্সি ও কম্প্যাক্ট ডিজাইন বজায় রেখেই নতুন রূপে হাজির হয়েছে এই গাড়িটি। এর লুক আরও তীক্ষ্ণ ও আধুনিক করা হয়েছে। সামনে রয়েছে স্লিম এলইডি ডিআরএল, ব্ল্যাক-আউট গ্রিল, নতুন এলইডি হেডল্যাম্প এবং আপডেট করা বাম্পার। পেছনের অংশে যুক্ত হয়েছে কানেক্টেড এলইডি টেইলল্যাম্প এবং নতুন ডিজাইনের বাম্পার। সাইড প্রোফাইলে নতুন ১৬ ইঞ্চির ডায়মন্ড-কাট অ্যালয় হুইল গাড়িটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্মার্ট, পিওর, পিওর প্লাস, অ্যাডভেঞ্চার, অ্যাকমপ্লিশড এবং অ্যাকমপ্লিশড প্লাস এস—এই ছয়টি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে গাড়িটি। পাশাপাশি বেঙ্গল রুজ, ক্যারামেল, কুর্গ ক্লাউডস, সায়ানট্যাফিক, ডেটোনা গ্রে এবং প্রিস্টিন হোয়াইটের মতো নজরকাড়া ছয়টি রঙের বিকল্প পাচ্ছেন গ্রাহকরা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দেশের সর্বাধিক বিক্রিত গাড়ি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল এই মডেলটি। চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে মারুতি সুজুকি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির শীর্ষস্থান দখলের এটিই ছিল প্রথম নজির।

সুরক্ষা এবং আধুনিক ফিচার্স
গাড়িটিতে নিরাপত্তার দিকটিতেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ফিচার হিসেবে থাকছে ছয়টি এয়ারব্যাগ, ইএসসি, এবিএস, টিপিএমএস, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং রিভার্স পার্কিং সেন্সর। ভারত নিউ কার অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রামে (BNCAP) ইতিমধ্যেই ৫-স্টার সেফটি রেটিং অর্জন করেছে এই গাড়ি। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার জন্য রয়েছে ১০.২৪ ইঞ্চির এইচডি ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, ওয়্যারলেস ফোন চার্জিং এবং হারমান অডিও সিস্টেম।

পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টে ৩৬৬ লিটার এবং সিএনজি মডেলে ২১০ লিটারের পর্যাপ্ত বুট স্পেস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী টাটা পাঞ্চের দাম শুরু হচ্ছে ৫.৭০ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) থেকে। তবে সম্প্রতি কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনপ্রিয় এই গাড়িটির দাম ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাই বুকিং করার আগে পছন্দের ভ্যারিয়েন্টের সঠিক দাম এবং ওয়েটিং পিরিয়ড সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *