ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ! মার্কিন মুলুকে পা রাখার আগেই বড় বিপাকে পড়তে চলেছেন আরএসএস প্রধান?

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের আসন্ন নিউ ইয়র্ক সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। তাঁর আমেরিকা সফরের ঠিক প্রাক্কালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন বা ইউএসসিআইআরএফ (USCIRF) ওয়াশিংটন প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের নির্দিষ্ট কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে স্যাংশন বা নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করেছে এই মার্কিন সংস্থা।

মোহন ভাগবতের সফর ও মার্কিন কমিশনের নির্দেশিকা

আগামী ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্কে ‘আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ বা ‘আহেড’ (AHEAD)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’-এ যোগ দিতে চলতি মাসের শেষের দিকে আমেরিকা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মোহন ভাগবতের। এই সফরের ঠিক আগেই ইউএসসিআইআরএফ চেয়ার আসিফ মাহমুদ এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আরএসএসের সদস্য। তাঁর দাবি, এই মূল সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান ও মুসলমান সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলস আলাদাভাবে মন্তব্য করেছেন যে, আরএসএস নেতারা ভারতীয় সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মার্কিন সরকারের তরফ থেকে তাঁদের যেন কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানো হয়। এর পরিবর্তে, ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য ওয়াশিংটন প্রশাসনের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ভাগবতের এই সফরের ঠিক আগে এই ধরনের মন্তব্যের ফলে তাঁর এই মার্কিন outreach বা জনসংযোগ কর্মসূচি আরও বেশি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সমীকরণ ও কমিশনের ভূমিকা

উল্লেখ্য, ইউএসসিআইআরএফ হলো একটি স্বাধীন মার্কিন ফেডারেল উপদেষ্টা কমিশন, যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নজরদারি চালায় এবং মার্কিন সরকারকে নীতিগত সুপারিশ প্রদান করে থাকে। তবে এই কমিশনের সুপারিশগুলি সরাসরি মার্কিন সরকারের কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্ত বা সরকারি নিষেধাজ্ঞা নয়।

এর আগেও এই কমিশন ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার রেকর্ড নিয়ে একাধিকবার সমালোচনা করেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। তবে নয়াদিল্লি অতীতে এই ধরনের সমস্ত মূল্যায়ন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের অভিযোগ, এই কমিশন প্রায়শই পক্ষপাতদুষ্ট বা একপেশে তথ্যের ওপর নির্ভর করে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে থাকে।

বর্তমান এই নতুন হস্তক্ষেপটি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এসেছে। মোহন ভাগবতের নিউ ইয়র্ক সফরটি মূলত একটি প্রবাসী ভারতীয় ও সামাজিক জনসংযোগমূলক অনুষ্ঠান হলেও, মার্কিন কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি এবং কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানোর হুঁশিয়ারি দিল্লি ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়াতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *