অনাস্থার আগের রাতেই পদত্যাগ! বীরভূমে কাজল শেখের ইস্তফায় শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে

বীরভূম জেলা পরিষদের অন্দরে চলা ক্ষমতার লড়াইয়ে নাটকীয় মোড়। অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটির ঠিক আগের দিন পদত্যাগ করলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। বর্ধমান ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই তা গৃহীত হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে সমস্ত দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা পরিষদ সদস্য যে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থায় ভোট দিতে চলেছেন, তা বুঝতে পেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কাজল শেখ। বীরভূম জেলা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা বাহান্ন। তার মধ্যে এক সদস্যের প্রয়াণের পর বর্তমান সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশ। এর মধ্যে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ ১৮ জন সদস্য গত কয়েকদিন ধরে একটি হোটেলে ঘাঁটি গেড়েছিলেন এবং গোপনে বৈঠক করছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার রাতে কাজল ঘনিষ্ঠ প্রায় ১৬ জন সদস্য তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁদের পক্ষে আর সমর্থন বজায় রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবির থেকেও গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর ওপর তীব্র চাপ তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া, একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ এবং সিএজি রিপোর্ট নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছিলেন কাজল শেখ।
সিএজি রিপোর্টে বীরভূম জেলা পরিষদের তিনটি বড় ত্রুটি সামনে এসেছে। প্রথমত, কাজ না হওয়া সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকার টেন্ডার এবং বিল পাশ হয়ে যাওয়া এবং জেলা পরিষদের তহবিলে চৌদ্দ থেকে ষোলো লক্ষ টাকার হিসাব না থাকা। দ্বিতীয়ত, টেন্ডার দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্পের টাকার একটি বড় অংশ কাটমানি হিসেবে বেরিয়ে যাওয়ায় কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটিতে নিজের বিপক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন কাজল শেখ।