ভারত বিদ্বেষী মির্জা ফখরুলকেই কেন রাষ্ট্রপতি করছে BNP? নেপথ্যে অন্য কোন ‘খেলা’?

সংবিধানের নিয়ম মেনে এবং সংসদীয় রাজনৈতিক পালাবদলের হাত ধরে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাক্ষী থাকতে চলেছে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। ১৯৮১ ও ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম নির্বাচনমুখী লড়াই দেখছে দেশের রাজনৈতিক মহল।
গত ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে বা মেয়াদ শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন প্রধান নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম মেনেই বর্তমান সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ওলি আহমেদ।
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পরই দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই ও দায়িত্ব পালনকালে কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনও অবস্থাতেই আপস করা হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সব মিলিয়ে, বঙ্গভবনের এই নতুন ক্ষমতার পালাবদল দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে চলেছে।