বৃষ্টি কমলেও কাটেনি আতঙ্ক! পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বৃষ্টি কিছুটা কমলেও দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের দুশ্চিন্তা কাটছে না। বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের নিচে। কোথাও কোথাও ঘরের একতলা পর্যন্ত জল জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে এর মাঝেই কিছুটা স্বস্তির খবর শুনিয়েছে রাজ্য সেচ দফতর। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নিম্নাঞ্চলগুলির অবস্থার দ্রুত উন্নতির আশা করা হচ্ছে।
সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ অনেকটাই কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেখানে ৩৭,৮২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। পাশাপাশি, মাইথন জলাধার থেকে ৬,০০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৩৬,০০০ কিউসেক হারে জল ছাড়ার কাজ চলছে। উচ্চ অববাহিকার জলাধারগুলি থেকে জলের পরিমাণ আর না বাড়লে দামোদর তীরবর্তী জেলাগুলির জলস্তর নামতে শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও পশ্চিম মেদিনীপুরের পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। খড়্গপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘাটাল সংলগ্ন এলাকায় ঝুমি নদীর জলস্তর বাড়ছে। অন্যদিকে কেলেঘাই, কপালেশ্বরী ও সুবর্ণরেখা নদীর জল উপচে পড়ে সবং, নারায়ণগড় ও দাঁতন সহ খড়্গপুর মহকুমার প্রায় ৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। যদিও বর্তমানে কিছু জায়গায় জল নামতে শুরু করেছে, তবুও দুর্গত মানুষের দুর্দশার শেষ নেই।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আজ সবং সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আকাশপথে প্লাবিত এলাকাগুলি ঘুরে দেখার পর সবংয়ের একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাডে তাঁর অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সোজা সবং বিডিও অফিসে পৌঁছে একটি উচ্চপর্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। ওই বৈঠকে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলির বিডিও, স্থানীয় বিধায়ক এবং স্বাস্থ্য ও ত্রাণ দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছে কি না এবং জলবন্দি মানুষের সহায়তায় প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, বৈঠকে সেই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।