একে-৪৭ হাতে রাজভবন অভিযান আরজেডি-র! তেজস্বী যাদবকে হেফাজতে নিল পুলিশ, বিহারে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

পাটনা: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের ওপর একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল বিহার। বুধবার পাটনার রাজভবন অভিমুখে আরজেডি-র বিশাল মিছিলে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। শেষপর্যন্ত তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাজভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় আরজেডি কর্মীদের বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গাড়ি থেকে আটক অবস্থায় তেজস্বী যাদব গর্জে উঠে বলেন, “আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দুর্নীতি বন্ধ করতে এবং ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় বিহারকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সাধারণ মানুষ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার চাই।”

মিছিলে আরজেডি কর্মীদের হাতে কাঠের তৈরি একে-৪৭ মডেল দেখা যায়, যা সিওয়ানে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আরজেডি সাংসদ মিসা ভারতী বর্তমান বিহার সরকারকে ‘খুনি সরকার’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্বীকার করেছে যে বিক্ষোভে একে-৪৭ ব্যবহার করা হয়েছিল। আমাদের প্রশ্ন, কার নির্দেশে পুলিশ একে-৪৭ নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়েছে? অবিলম্বে ডিএম এবং এসপি-কে বরখাস্ত করা উচিত।”

অন্যদিকে, আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা দাবি করেন, বিহারে এখন পরীক্ষা ফাঁস একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে, যা যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। বুধবারের এই মিছিলে যোগ দিতে আসা বহু ছাত্রনেতাকে পুলিশ আগাম আটক করেছে এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা পড়ুয়াদের ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিজেপি অবশ্য এই মিছিলকে তেজস্বীর রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি দাবি করেছেন, আরজেডি নেতাদের নিজেদের নেতার ওপরই আস্থা নেই, তাই রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফেরাতেই এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। তবে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই রাজনৈতিক তরজায় বিহারের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত দিশেহারা। আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *