অফিসে হাসিখুশি থাকলেই কি বস ভাবেন আপনি কাজ করেন না? কর্পোরেট দুনিয়ায় টিকে থাকার এই মন্ত্র জানলে চমকে যাবেন!

কর্পোরেট জগতের কাজের চাপ এবং অলিখিত নিয়মকানুন প্রায়ই পেশাদারদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে হাসিখুশি থাকলে বা নিজের শখের পেছনে সময় দিলে সহকর্মী বা বসরা ধরে নেন যে আপনি কাজের প্রতি আন্তরিক নন। তবে এই ধারণাকে বদলে দিয়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় সহজেই টিকে থাকার একটি দুর্দান্ত এবং সহজ উপায় সামনে এনেছেন কাশী বিশ্বনাথ নামের এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী, যা বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে দারুণভাবে ভাইরাল হচ্ছে।

কাজই হোক আপনার আসল ঢাল
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে কাশী বিশ্বনাথ পরিষ্কার ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আপনি যদি কর্মক্ষেত্রে খুশি থাকেন কিংবা নিজের শখ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে চারপাশের মানুষ ধরে নেবেন চাকরিটি আপনার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ভুল ধারণা ভাঙানোর একটাই অব্যর্থ রাস্তা রয়েছে— আপনার কাজের পারফরম্যান্স যেন নিজেই আপনার হয়ে কথা বলে।

আপনাকে যে দায়িত্বই দেওয়া হোক না কেন, কোনো রকম ব্যর্থতা ছাড়াই আপনার নির্ধারিত টার্গেট, কেআরএ (KRA) এবং কেপিআই (KPI) পূরণ করতে হবে। একবার আপনি নিজের নির্ধারিত লক্ষে পৌঁছে গেলে, আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা শখ নিয়ে আর কেউ কোনো প্রশ্ন তোলার সাহস পাবে না।

লক্ষ্য পূরণ না হলে কোনো অজুহাতই টিকবে না
ভিডিওটিতে একটি অত্যন্ত কড়া অথচ বাস্তব সত্য তুলে ধরা হয়েছে। যতক্ষণ আপনার কাজের ফলাফল নিখুঁত থাকছে, ততক্ষণ কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একবার আপনি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে, অতীতে একশোটি কাজ নিখুঁতভাবে করলেও কেউ আপনার প্রশংসা করবে না। তাই নিজের চাকরির নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখার জন্য কথার চেয়ে কাজের ফলাফলের ওপরেই সম্পূর্ণ ফোকাস করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।

ট্রেনিং ছাড়াই চাকরি পেলে নতুনদের কী করা উচিত?
এই ভাইরাল আলোচনার মধ্যেই এক নতুন ব্যবহারকারী ফ্রেশারদের একটি গুরুতর সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অনেক সংস্থাই নতুন কর্মীদের কোনো রকম প্রশিক্ষণ না দিয়েই সরাসরি কাজের চাপে ফেলে দেয়।

এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কাশী পরামর্শ দিয়েছেন, অবিলম্বে ম্যানেজারের সঙ্গে একটি ওয়ান-অন-ওয়ান মিটিং করে নিন। সেখানে পরিষ্কার বলুন যে আপনি দলের সেরা পারফর্মার হতে চান, যার জন্য সঠিক নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মিটিং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো আলোচনার একটি সারসংক্ষেপ ইমেইল করে ম্যানেজারের কাছে পাঠিয়ে দিন, যাতে আপনার হাতে সর্বদা লিখিত প্রমাণ থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমর্থন
কাশী বিশ্বনাথের এই বাস্তবসম্মত পরামর্শ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে। বেশিরভাগ নেটিজেনই তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, অফিসে বাহ্যিক লোকদেখানো ব্যস্ততার চেয়ে কাজের প্রকৃত ফলাফল অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এটি প্রতিটি কর্মীর কেরিয়ারের জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকরী পাঠ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *