“২৭ বার কোপ, চুরি ১.৫লাখ”- প্রধান শিক্ষিকাকে কুভাবে খুন দশম শ্রেণির ২ পড়ুয়ার?

বাস্তব জীবন যে অনেক সময় সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাতে পারে, তার প্রমাণ মিলল তেলেঙ্গানার একটি ঘটনায়। দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের হাতে নির্মমভাবে খুন হলেন এক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। আল্লাডু রূপা রেড্ডি নামের ওই শিক্ষিকাকে তাঁরই বাড়িতে ঢুকে ২৭ বার ছুরি মেরে খুন করার অভিযোগ উঠেছে দুই নাবালক ছাত্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ পুলিশ অন্ধকারে থাকলেও, একটি ছোট সূত্র ধরে অবশেষে রহস্যভেদ করেছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১১ অগাস্ট স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর ওই শিক্ষিকার বাড়িতে চড়াও হয় দুই নাবালক। মুখে মাস্ক পরে পাঁচিল টপকে তারা ঘরে ঢোকে এবং ঠান্ডা মাথায় হামলা চালায়। হামলার সময় এক অভিযুক্তের মুখ থেকে মাস্ক খুলে যাওয়ায় শিক্ষিকা তাঁকে চিনে ফেলেন। এর পরেই প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাঁকে ২৭ বার ছুরি দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। খুনের পর বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
এই লোমহর্ষক ঘটনার কিনারা করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। নালগোন্ডার পুলিশ সুপার শরৎচন্দ্র পাওয়ার জানিয়েছেন, প্রথমে প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হলেও কোনও কুলকিনারা মেলেনি। অবশেষে রূপা রেড্ডির ফোনের একটি ভিডিও ক্লিপে তাঁর মুখে ‘বাবু’ সম্বোধন শোনার পরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পুলিশ জানতে পারে, স্কুলেও ওই দুই ছাত্রকে ‘বাবু’ বলে ডাকতেন শিক্ষিকা। এরপর অনুপস্থিত ১৩ জন পড়ুয়ার মধ্যে দুই ছাত্রের অস্বাভাবিক বেশি টাকা খরচ করার বিষয়টি নজরে আসতেই সন্দেহ দানা বাঁধে।
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এক নাবালকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকার নোটে রক্তের দাগ পাওয়া যায়, যা ফেসেন্সিক পরীক্ষায় রূপা রেড্ডির রক্তের সঙ্গেই মিলে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত এক ছাত্র হস্টেলে থেকে মদ্যপান করত এবং বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াত। সেই কারণে প্রধান শিক্ষিকা তার ব্যাগ থেকে মোবাইল ও টাকা বাজেট করে নিয়েছিলেন এবং হস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই আক্রোশ থেকেই বাড়িতে রেকি করে এই ঠান্ডা মাথার খুন পরিকল্পনা করে ওই দুই কিশোর। অভিযুক্তরা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের জুভেনাইল জাস্টিস কোর্টে পেশ করা হবে।