মুখে দিলেই মিলিয়ে যাবে নরম তুলতুলে তালের লুচি! জিভে জল আনা এই রেসিপি একবার ট্রাই করেছেন কি?

ভাদ্র মাস মানেই বাঙালির রান্নাঘরে তালের ম ম গন্ধ। তাল দিয়ে ক্ষীর, পায়েস বা তালের বড়া তো প্রতি বছরই তৈরি হয়, তবে এবারের উৎসবের মরসুমে প্রাতরাশ বা সান্ধ্যকালীন জলখাবারে একটু অন্যরকম স্বাদ আনতে পারেন। অত্যন্ত সহজ উপায়ে ঘরেই বানিয়ে ফেলা যায় মুচমুচে অথচ নরম তুলতুলে ‘তালের লুচি’। স্বাদ ও গন্ধে যা যেকোনো সাধারণ লুচিকে সহজেই টেক্কা দিতে পারে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
গমের আটা বা ময়দা – ২ কাপ
ঘন তালের কাথ বা পাল্প – ১/২ কাপ
গুঁড়ো চিনি – ২ টেবিল চামচ
মৌরি (সামান্য থেঁতো করা) – ১/২ চা চামচ
ঘি বা সাদা তেল (ময়ান দেওয়ার জন্য) – ২ টেবিল চামচ
নুন – এক চিমটে
ছাঁকা তেলে ভাজার জন্য – পরিমাণমতো সাদা তেল
রান্নার সহজ পদ্ধতি:
প্রথমে পাকা তাল ভালো করে ধুয়ে ছাল ছাড়িয়ে অল্প জল দিয়ে চটকে ঘন নির্যাস বের করে নিন। সেই নির্যাস সুতির কাপড়ে বা খাঁজকাটা ছাঁকনিতে ছেঁকে নিন, যাতে কোনো আঁশ না থাকে। এরপর কড়াইতে তালের নির্যাস ও গুঁড়ো চিনি একসঙ্গে দিয়ে হালকা আঁচে ৪-৫ মিনিট ফুটিয়ে একটু ঘন করে নিন এবং ঠান্ডা হতে দিন।
একটি বড় পাত্রে ময়দা, এক চিমটে নুন, সামান্য থেঁতো করা মৌরি এবং ২ চামচ গরম ঘি বা তেল দিন। এবার হাত দিয়ে ময়দা ভালো করে ঘষে ঘষে ময়ান দিন। ময়ান যত ভালো হবে, লুচি ততটাই ফুলকো হবে।
এবার ময়দার মধ্যে জল না দিয়ে, আগে থেকে তৈরি রাখা ঘন তালের নির্যাস অল্প অল্প করে মেশাতে থাকুন। ভালো করে ঠেসে ঠেসে নরম অথচ শক্ত একটি মণ্ড (Dough) তৈরি করুন। প্রয়োজন মনে হলে খুব সামান্য হালকা গরম জল ব্যবহার করতে পারেন। মণ্ড তৈরি হলে ঢাকনা দিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন।
এরপর মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। বেলনিতে সামান্য তেল মাখিয়ে হালকা হাতে গোল গোল করে লুচির আকারে বেলে নিন। কড়াইতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাদা তেল ধোঁয়া ওঠা গরম করে নিন। এবার একটি করে লুচি ফুটন্ত তেলে ছেড়ে ছাঁকা চামচ দিয়ে হালকা চাপ দিন। চোখের পলকে ফুলকো ও সোনালি রঙের তালের লুচি ভেসে উঠবে।
গরম গরম তালের লুচি আলুর দম, ছোলার ডাল কিংবা ঘরা তালের ক্ষীরের সঙ্গে পরিবেশন করুন। তালের মিষ্টি সুবাস ও মৌরির সোঁদা গন্ধে ছুটির বা সন্ধ্যার এই জলখাবার জমে উঠবে নিমেষেই।