বিশ্বমঞ্চে ৫ দশকের পুরনো রেকর্ড চুরমার! দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েও কেন অখুশি কোচ?

খাতায়কলমে বিশাল বড় জয়। স্কোরলাইন ৬-১। মহিলা হকি বিশ্বকাপে এটিই ভারতীয় মহিলা দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। মঙ্গলবার আমস্টেলভিনের ভাগেনার হকি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কার্যত উড়িয়ে দিল ভারত। কিন্তু এত বড় জয়ের পরেও পারফরম্যান্স নিখুঁত নয়, ছন্দে কোথাও যেন একটা ঘাটতি রয়ে গেল।
চিনের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল প্রমীলা বাহিনী। অলিম্পিক রুপোজয়ীদের বিরুদ্ধে সেই লড়াই রীতিমতো প্রশংসনীয় ছিল। শৃঙ্খলা, ফোকাস এবং দলগত বোঝাপড়া—সবই চোখে পড়ার মতো ছিল সেখানে। কিন্তু এদিন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিরুদ্ধে সেই রসায়নটাই যেন উধাও হয়ে গেল। অজস্র ভুল পাস এবং ব্যক্তিগত ত্রুটির ছড়াছড়ি দেখা গেল মাঠে। তবু এল কাঙ্ক্ষিত বড় জয়, যার সুবাদে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই পুল ডি-র শীর্ষে উঠে এল ভারত। পরের ধাপে যাওয়ার জন্য গোলপার্থক্য বাড়িয়ে রাখাও জরুরি ছিল, আর সেই কাজটা নিখুঁতভাবে সারলেন নবনীতরা।
প্রথমার্ধে লিড, তবুও অসন্তুষ্ট কোচ
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩-০ লিড নিয়েছিল ভারত। কিন্তু দলের খেলায় বিন্দুমাত্র খুশি নন ভারতের হেড কোচ শোয়ার্ড মারিন। হাফটাইমের সাক্ষাৎকারে তাঁর সাফ কথা, খেলোয়াড়রা বড্ড বেশি ব্যক্তিগত ভুল করছে। ফরোয়ার্ড লাইনের বোঝাপড়ায় অভাব স্পষ্ট ছিল। দুর্বল প্রোটিয়া রক্ষণের ফায়দা তুলতে প্রথমদিকে চরম ব্যর্থ হয় ভারত। যখন দু-একটি ভালো পাস তৈরি হয়েছে, তখনই ফাইনাল শটে ধার উধাও ছিল।
প্রথম গোলটি এল যেন উপহার হিসেবে। নবনীত কৌরের সাধারণ পাস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ডিফেন্ডার। ফাঁকায় বল পেয়ে সহজ ট্যাপ-ইনে গোল করেন সুনেলীতা টোপ্পো। এরপর পেনাল্টি কর্নার থেকে দুরন্ত শটে ব্যবধান বাড়ান খোদ নবনীত। তৃতীয় গোলটি আসে অপ্রত্যাশিতভাবে। আড়াইশোর বেশি ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সুশীলা চানুর শট বিপক্ষ গোলরক্ষকের স্টিক ছুঁয়ে জালে জড়ায়। এটি সুশীলার কেরিয়ারের সপ্তম আন্তর্জাতিক গোল।
ছয় গোল, ছয় ভিন্ন স্কোরার
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও পাসিংয়ের সমস্যা প্রকট ছিল। তবে ৩৮ মিনিটে চোখে পড়ে আসল ঝলক। নবনীত ও বলজিৎ কৌরের চমৎকার বোঝাপড়া দেখা যায়। প্রোটিয়া ডিফেন্ডারদের ভিড়ের মধ্যে তিনবার নিজেদের মধ্যে পাস খেলে বলজিতের পাস থেকে নিজের ৩৯তম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন তরুণ স্ট্রাইকার দীপিকা সেহরাওয়াত। পঞ্চম গোলটি আসে লালরেমসিয়ামির হান্দে। তাঁর জোরালো রিভার্স হিট আটকাতে ব্যর্থ হন বিপক্ষের পরিবর্ত গোলরক্ষক। অন্তিম গোলটি আসে ১৮ বছরের প্রতিভাবান সাক্ষী রানার স্টিক থেকে। তাঁর নিখুঁত রিভার্স হিট সোজা জাল কাঁপায়। সব মিলিয়ে ভারতের ছ’টি গোল এল ছ’জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের হাত ধরে।
তবে এর মধ্যেই বেশ কয়েকবার ভারতীয় অর্ধে হানা দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশেষে ৫৫ মিনিটে প্রোটিয়াদের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন কায়লা ডি ওয়াল। হান্না পিয়ার্সের ড্র্যাগ-ফ্লিকের দিক পরিবর্তন করে বল জালে জড়ান তিনি।
১৯৭৪ সালে স্পেনকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ভারত। এতদিন সেটাই ছিল বিশ্বকাপে ভারতের সেরা সাফল্য। এদিন সেই পাঁচ দশকের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল দল। নিজেদের সেরা খেলাটা না খেলেও বড় ব্যবধানে জয় পেল ভারত। পুল ডি-তে তাদের শেষ ম্যাচ শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই কঠিন লড়াইয়ে নামার আগে এই ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন কোচের প্রধান লক্ষ্য।