সিকিউরিটি গার্ড থেকে রাতারাতি রূপোলি পর্দার ‘টারজান’! হেমন্ত বির্জে-এর উত্থান-পতনের রূপকথা হার মানাবে যে কোনো সিনেমাকে

রাতোরাতি ভাগ্য বদলে যাওয়ার গল্প চলচ্চিত্রে অহরহ দেখা গেলেও, হেমন্ত বির্জে-এর জীবনের সফর যেন যে কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। পুণেতে এক সাধারণ সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করা এক যুবক থেকে আশির দশকের অন্যতম চর্চিত অ্যাকশন হিরো ‘টারজান’ হয়ে ওঠার কাহিনি সত্যিই বলিউড ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর ও বিস্ময়কর অধ্যায়।

১৯৮০-র দশকের শুরুতে হেমন্ত বির্জে একটি সংস্থায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বডি-বিল্ডিংয়ের প্রতি প্রবল ঝোঁক এবং বলিষ্ঠ শারীরিক গঠনের কারণে তাঁর চেহারায় এক ধরনের বুনো আকর্ষণ ও আত্মবিশ্বাস ছিল। ১৯৮৫ সালে বিখ্যাত পরিচালক বব্বর সুভাষ যখন তাঁর নতুন ছবি ‘অ্যাডভেঞ্চার্স অফ টারজান’-এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক মুখের সন্ধানে ছিলেন, তখন ভাগ্যক্রমে তাঁর নজর পড়ে হেমন্তের ওপর।

এরপর হেমন্তকে কয়েক মাসের বিশেষ শারীরিক ও অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে সরাসরি ক্যামেরার সামনে দাঁড় করানো হয়। জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিমি কাটকরের বিপরীতে অভিনয় করে প্রথম ছবিতেই বক্স অফিসে দারুণ ঝড় তোলেন হেমন্ত এবং রাতারাতি ভারতজুড়ে আকাশছোঁয়া তারকাখ্যাতি লাভ করেন।

টাইপকাস্টিং ও রামসে যুগের হরর সিনেমা
প্রথম ছবির অভাবনীয় সাফল্যের পর হেমন্তের কাছে প্রচুর কাজের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। তবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো গডফাদার না থাকায় এবং তাঁর শারীরিক কাঠামোর কারণে তিনি খুব দ্রুত টাইপকাস্টিংয়ের শিকার হন। মূলধারার প্রধান চরিত্রের বদলে তাঁর কপালে জুটতে থাকে একের পর এক বি-গ্রেড অ্যাকশন সিনেমা এবং রামসে ব্রাদার্সের জনপ্রিয় হরর ছবি—যেমন ‘বীরানা’ ও ‘তাহখানা’। পরবর্তীতে মিঠুন চক্রবর্তী এবং সলমন খানের মতো সুপারস্টারদের বিভিন্ন ছবিতেও পার্শ্বচরিত্র বা খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন তিনি।

রূপোলি পর্দার আড়ালে চরম কষ্ট
সুঠাম পেশিবহুল চেহারার জোরে ইন্ডাস্ট্রিতে রূপকথার মতো পা রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একই ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে করতে মূলধারার চলচ্চিত্র থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান হেমন্ত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন ফিটনেস কমতে থাকে, তেমনই কাজের সুযোগও হাতের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত জীবনে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও আবাসন সংক্রান্ত আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসেন এই অভিনেতা।

একসময়ের সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড থেকে তারকার দ্যুতি ছড়ানো এবং পরবর্তীতে সময়ের স্রোতে পর্দার আড়ালে হারিয়ে যাওয়া—হেমন্ত বির্জে-এর এই উত্থান-পতনের বিষণ্ণ গল্প আজও বলিপাড়ার অন্দরে এক অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *