মাঝরাতে বাঁধ ভাঙল নদীর জল! ঘরের চালে আশ্রয় নেওয়া শিশু ও মহিলাদের উদ্ধারে রাতারাতি মসিহা কে এই বিজেপি কাউন্সিলর?

রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়ল আসানসোলের রেলপাড় এলাকা। মাঝরাতে হঠাৎ করে গাঁড়ুই নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। একতলা বাড়ি পর্যন্ত জলের নিচে চলে যাওয়ায় মাঝরাতে ঘর ছেড়ে বের হতে পারেননি বহু মানুষ। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ছাদের ওপর উঠে আশ্রয় নেন তাঁরা। এমন চরম দুর্দিনে সাধারণ মানুষের পাশে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন আসানসোল পুরনিগমের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর গৌরব গুপ্ত। স্পিড বোটে চড়ে খোদ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে বুক জলে নেমে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে অনন্য নজির গড়লেন তিনি।

রাতভর তাণ্ডব ও চরম দুর্ভোগ সোমবার সারাদিন ধরেই আসানসোলে কখনো হালকা, কখনো ভারী বৃষ্টিপাত চলছিল। বিকেলের পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে শহরের বুক দিয়ে বয়ে যাওয়া গাঁড়ুই নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। আর তার জেরে সোমবার মাঝরাতে রেলপাড় সংলগ্ন এলাকাগুলিতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নদীর জলের তোড়ে নিমেষেই একতলা সমান জল জমে যায় বহু বাড়িতে।

খবর পাওয়া মাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান কাউন্সিলর গৌরব গুপ্ত। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তিনি পুরো পরিস্থিতি তদারকি করেন। যে সমস্ত এলাকায় জল কিছুটা কম ছিল, সেখানে নিজেই বুক জলে নেমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু ও বাসিন্দাদের হাতে দুধের প্যাকেট এবং পাউরুটি তুলে দেন। পাশাপাশি দুর্গতদের স্থানীয় মন্দির ও নিরাপদ উঁচু স্থানগুলিতে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি কাউন্সিলর গৌরব গুপ্ত বলেন, “রাতে জল বৃদ্ধির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় চলে যাই এবং পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করি। বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ও সর্বক্ষণ পাশে ছিলেন। সকাল থেকে দুর্গতদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নিয়মিত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কাউকেই কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।”

পাশে থাকার আশ্বাস স্থানীয় প্রশাসনের এদিকে আকস্মিক এই প্লাবনের খবর পেয়ে আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, টানা বৃষ্টির ফলেই এই সাময়িক বিপত্তি ঘটেছিল। তবে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সব সময় মানুষের পাশে রয়েছেন। ইতিমধ্যে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে, যাতে যেকোনো প্রয়োজনে বাসিন্দারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। একটানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জনপ্রতিনিধিদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ এবং উদ্ধারকাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শহরবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *