সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধ অনুকরণে ভয়াবহ পরিণতি! ১ কোটি টাকার লোভে ১৭ বছরের হকারকে যা করল বন্ধুরা, জানলে রক্ত হিম হবে।

ইনস্টাগ্রামের ভুয়ো রিল দেখে ১ কোটির লোভে অন্ধ বন্ধুরা! ১০০ টাকার টোপ দিয়ে ১৭ বছরের হকারকে খুন
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া কোনো কোনো ভুয়ো তথ্য বা রিল মানুষের জীবন কতটা বিপন্ন করে তুলতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক উদাহরণ সামনে এল। মানুষের অণ্ডকোষের দাম নাকি বাজারদরে প্রায় দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি! সোশ্যাল মিডিয়ার এমনই এক ভুয়ো ভিডিওয় বিশ্বাস করে বসেছিল ভোপালের একদল তরুণ। আর সেই অবাস্তব ও কাল্পনিক তথ্যের বলি হতে হলো মাত্র ১৭ বছরের এক তরুণ হকারকে। স্রেফ ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই কিশোরকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই বন্ধুদের বিরুদ্ধে।
কীভাবে ঘটেছিল এই ভয়াবহ ঘটনা? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জঘন্য কাণ্ডের মূল হোতা ২০ বছরের জোহেব খান। সে নিজে বিবিএ-র ছাত্র হলেও বন্ধুদের কাছে নিজেকে ‘ডাক্তার’ বলে জাহির করত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইনস্টাগ্রামের একটি বিভ্রান্তিকর ভুয়ো ভিডিও দেখিয়ে জোহেব বাকিদের মাথা ঢুকিয়ে দেয় যে, ১৫ বছরের বেশি বয়সি কোনো ছেলের অণ্ডকোষ বিক্রি করলেই মিলবে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা! ওই ভুয়া ‘ডাক্তারের’ কথায় অন্ধের মতো বিশ্বাস করে ফেলে বাকি বন্ধুরা।
গত ৬ আগস্ট পুরোনো কোনো বচসা মিটিয়ে নেওয়ার নাম করে এবং মাত্র ১০০ টাকার লোভ দেখিয়ে রেহান নামের ওই কিশোর হকারকে একটি নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সেখানে পৌঁছানোর পর ছুরি ও ধারালো ব্লেড দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয় রেহানকে। এমনকি খুনের পর মৃতদেহ থেকে অণ্ডকোষ কেটে একটি প্যাকেটে ভরেও নেয় তারা।
যে কারণে পরিকল্পনা ভেস্তে যায় তবে অপরাধের পর চরম বিপত্তিতে পড়ে অভিযুক্তরা। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী অঙ্গপাচার বা চড়া দামে এই ধরনের অঙ্গ বিক্রির বিন্দুমাত্র কোনো সত্যতা নেই। বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে ওই কাটা অংশটি চড়া দামে কেনার মতো কোনো ক্রেতা না পেয়ে অবশেষে চরম হতাশায় ওই কাটা অংশটি জলে ফেলে দেয় তারা।
গত ১০ আগস্ট ভোপালের ছোট তালাব এলাকা থেকে একটি পচা-গলা দেহ উদ্ধারের পর রহস্যভেদে নামে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ১৫ আগস্ট নিহতের মা হাতের ট্যাটু দেখে মৃতদেহটি তাঁর ছেলে রেহানের বলে শনাক্ত করেন। এরপর সূত্র ধরে পুলিশ জোহেব খান ও ১৮ বছরের আমির কুরেশি নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তিন নাবালককেও আটক করে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়ো তথ্যের বশে এই ধরনের নৃশংস অপরাধের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।