ফাঁসি বাদ দিয়ে কি অন্য কোনো উপায়ে কার্যকর হবে মৃত্যুদণ্ড? বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের!

ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রচলিত পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে যন্ত্রণা কমানো এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদা বজায় রাখতে আরও উপযুক্ত কোনো বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা কেন্দ্রের রয়েছে।
আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে
মূল মামলাটি দায়ের করেছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ঋষি মালহোত্র। তাঁর আবেদনে ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ৩৫৪(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। ওই ধারায় বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে “মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁস দিয়ে ঝোলাতে হবে।” মামলাকারীর দাবি ছিল, ফাঁসি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও কষ্টদায়ক প্রক্রিয়া, যা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত জীবনের অধিকার ও ব্যক্তিগত মর্যাদার পরিপন্থী। ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, গুলি করে মৃত্যু, বৈদ্যুতিক চেয়ার বা গ্যাস চেম্বারের মতো বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের আর্জি জানানো হয়েছিল।
ভবিষ্যতে পর্যালোচনার সুযোগ
মামলাটি খারিজ করলেও শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি চিকিৎসা বিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন কোনো জোরালো প্রমাণ সামনে আসে, যার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়, তবে বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে ফের খতিয়ে দেখা যেতে পারে। আদালত আরও জানিয়েছে, কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে এই বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে পারে।
কেন্দ্রের অবস্থান ও আগের আলোচনা
এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আরও উন্নত ও মানবিক কোনো পদ্ধতি খোঁজার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে। তবে শুনানির সময় বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনের কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই মামলার রায় সংরক্ষণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।